সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

জনতা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ: এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে দুই মামলা

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদসহ ৬৮ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা দুটি দায়ের করা হয়।

দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, একটি মামলায় ৩২ জন এবং অপর মামলায় ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ছাড়াও তার পরিবারের সদস্য, সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রথম মামলায় এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে ২ হাজার ৩২ কোটি ৩০ লাখ ৪৫ হাজার ৯১৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সাইফুল আলম মাসুদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আবদুল্লাহ হাসান, সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল আলমসহ এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন পরিচালক ও জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৬ মার্চ পর্যন্ত জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সুদে-আসলে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় মামলায় এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডের নামে ১ হাজার ১৫২ কোটি ৫১ লাখ ১৪ হাজার ১০৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডের পরিচালক শাহানা ফেরদৌস, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসকাত আহমেদ এবং জনতা ব্যাংকের দুইজন কর্মকর্তাসহ মোট ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৬ মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

এর আগে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গত ৯ জুলাই সাইফুল আলম ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়। এছাড়া গত ২৪ জুন বিদেশে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন আদালত।

এর আগে ১৭ জুন ১৮০ কোটি টাকার জমি ক্রোক এবং ১৪ জানুয়ারি গুলশান, ধানমন্ডি, উত্তরা ও বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন এলাকায় ২০০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ ক্রোকের পাশাপাশি ৬৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া গত বছরের ৭ অক্টোবর এস আলম, তার স্ত্রী, সন্তান ও ভাইসহ ১৩ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করেন আদালত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

জনতা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ: এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে দুই মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৮:২৬

ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদসহ ৬৮ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা দুটি দায়ের করা হয়।

দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, একটি মামলায় ৩২ জন এবং অপর মামলায় ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ছাড়াও তার পরিবারের সদস্য, সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রথম মামলায় এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে ২ হাজার ৩২ কোটি ৩০ লাখ ৪৫ হাজার ৯১৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সাইফুল আলম মাসুদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আবদুল্লাহ হাসান, সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল আলমসহ এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন পরিচালক ও জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৬ মার্চ পর্যন্ত জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সুদে-আসলে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় মামলায় এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডের নামে ১ হাজার ১৫২ কোটি ৫১ লাখ ১৪ হাজার ১০৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডের পরিচালক শাহানা ফেরদৌস, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসকাত আহমেদ এবং জনতা ব্যাংকের দুইজন কর্মকর্তাসহ মোট ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৬ মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

এর আগে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গত ৯ জুলাই সাইফুল আলম ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়। এছাড়া গত ২৪ জুন বিদেশে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন আদালত।

এর আগে ১৭ জুন ১৮০ কোটি টাকার জমি ক্রোক এবং ১৪ জানুয়ারি গুলশান, ধানমন্ডি, উত্তরা ও বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন এলাকায় ২০০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ ক্রোকের পাশাপাশি ৬৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া গত বছরের ৭ অক্টোবর এস আলম, তার স্ত্রী, সন্তান ও ভাইসহ ১৩ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করেন আদালত।