সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

হাইকোর্টের জামিন বিবেচনা নিয়ে প্রশ্ন আইন উপদেষ্টার

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের জামিন এবং হাইকোর্টের বিচারিক বিবেচনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি জামিন-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের সতর্ক করে বলেছেন, “আমাদের ছেলেদের জীবন বিপন্ন করার মতো সিদ্ধান্ত দেবেন না।”

ফেসবুক পোস্টে আইন উপদেষ্টা বলেন, “হাইকোর্ট বিচারিক কাজে স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। হাইকোর্টের ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো নিয়ন্ত্রণ পৃথিবীর কোনো দেশে থাকে না, বাংলাদেশেও নেই। কাজেই সেখানে ফয়সাল করিম মাসুদের জামিন হওয়ার সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না।”

অস্ত্র মামলায় জামিন পাওয়া সাধারণত কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ফয়সাল করিম মাসুদ অস্ত্র মামলায় জামিন পেয়েছেন। প্রভাবশালী আইনজীবীদের অবস্থানের কারণে কিছু ক্ষেত্রে এসব মামলায় জামিন সহজতর হয়ে ওঠে।”

হাইকোর্টের বিচারিক বিবেচনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসিফ নজরুল লেখেন, “এর আগেও একটি বেঞ্চে ৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮০০ মামলায় জামিন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমি প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলাম। সে সময় কয়েকজন আইনজীবী আমার পদত্যাগও দাবি করেছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “জামিন পাওয়ার সুযোগ আইনেই রয়েছে। তবে যেসব ক্ষেত্রে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা স্পষ্ট, তিনি চিহ্নিত সন্ত্রাসী কিংবা জামিন পেলে পুনরায় অপরাধে জড়ানোর আশঙ্কা থাকে—সে ধরনের আসামিকে জামিন দেওয়া অস্বাভাবিক ও অসংগত।” এ বিষয়ে তিনি প্রধান বিচারপতির কাছেও নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন বলে জানান।

নিম্ন আদালতের প্রসঙ্গ টেনে আইন উপদেষ্টা বলেন, “গত ১৬ মাসে নিম্ন আদালত থেকেও দেওয়া কিছু জামিনের ক্ষেত্রে নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অভিযোগপত্রে আসামির অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য বা দলীয় পরিচয় পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি। এরপরও যেনতেনভাবে জামিন দেওয়া হয়েছে।” তবে কিছু ক্ষেত্রে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সবশেষে বিচারিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে জামিন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বিচারিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে জামিন দিলে সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের সুযোগ করে দেওয়া হবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

হাইকোর্টের জামিন বিবেচনা নিয়ে প্রশ্ন আইন উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:০১

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের জামিন এবং হাইকোর্টের বিচারিক বিবেচনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি জামিন-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের সতর্ক করে বলেছেন, “আমাদের ছেলেদের জীবন বিপন্ন করার মতো সিদ্ধান্ত দেবেন না।”

ফেসবুক পোস্টে আইন উপদেষ্টা বলেন, “হাইকোর্ট বিচারিক কাজে স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। হাইকোর্টের ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো নিয়ন্ত্রণ পৃথিবীর কোনো দেশে থাকে না, বাংলাদেশেও নেই। কাজেই সেখানে ফয়সাল করিম মাসুদের জামিন হওয়ার সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না।”

অস্ত্র মামলায় জামিন পাওয়া সাধারণত কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ফয়সাল করিম মাসুদ অস্ত্র মামলায় জামিন পেয়েছেন। প্রভাবশালী আইনজীবীদের অবস্থানের কারণে কিছু ক্ষেত্রে এসব মামলায় জামিন সহজতর হয়ে ওঠে।”

হাইকোর্টের বিচারিক বিবেচনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসিফ নজরুল লেখেন, “এর আগেও একটি বেঞ্চে ৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮০০ মামলায় জামিন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমি প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলাম। সে সময় কয়েকজন আইনজীবী আমার পদত্যাগও দাবি করেছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “জামিন পাওয়ার সুযোগ আইনেই রয়েছে। তবে যেসব ক্ষেত্রে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা স্পষ্ট, তিনি চিহ্নিত সন্ত্রাসী কিংবা জামিন পেলে পুনরায় অপরাধে জড়ানোর আশঙ্কা থাকে—সে ধরনের আসামিকে জামিন দেওয়া অস্বাভাবিক ও অসংগত।” এ বিষয়ে তিনি প্রধান বিচারপতির কাছেও নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন বলে জানান।

নিম্ন আদালতের প্রসঙ্গ টেনে আইন উপদেষ্টা বলেন, “গত ১৬ মাসে নিম্ন আদালত থেকেও দেওয়া কিছু জামিনের ক্ষেত্রে নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অভিযোগপত্রে আসামির অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য বা দলীয় পরিচয় পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি। এরপরও যেনতেনভাবে জামিন দেওয়া হয়েছে।” তবে কিছু ক্ষেত্রে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সবশেষে বিচারিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে জামিন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বিচারিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে জামিন দিলে সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের সুযোগ করে দেওয়া হবে।”