সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

পরিবহন মালিকদের যোগসাজশে বাড়ল ট্রেনের ভাড়া?

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

সরাসরি টিকিটের মূল্য না বাড়ালেও ‘পন্টেজ চার্জ’ বা সেতু ব্যবহারের মাশুল আরোপের মাধ্যমে কৌশলে ট্রেনের ভাড়া বাড়িয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের আওতাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজারসহ ছয়টি রুটে এই নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে। শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া এই ভাড়ার তালিকায় রুটভেদে যাত্রীদের এখন সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো রুটের মধ্যে সেতু বা সমজাতীয় অবকাঠামো থাকলে ভাড়ার সঙ্গে যে বাড়তি মাশুল ধরা হয়, তাকেই পন্টেজ চার্জ বলা হয়। নতুন এই পদ্ধতিতে ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুকে আড়াই কিলোমিটার দূরত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, এক কিলোমিটার লম্বা কোনো সেতুর দূরত্ব গণনা করা হবে ২৫ কিলোমিটার হিসেবে। এই কৌশলী হিসাবের ফলে কাগজে-কলমে পথের দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় টিকিটের সঙ্গে বাড়তি মাশুল যুক্ত হয়েছে।

ভাড়া বাড়ানো রুটগুলো হলো—ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজার, ঢাকা-সিলেট, চট্টগ্রাম-সিলেট, চট্টগ্রাম-জামালপুর ও ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ। এসব রুটের ১১টি সেতুতে পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হয়েছে। ভাড়ার তালিকা পর্যালোচানায় দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ২০২৪ সালে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহারের পর ছিল ৮৫৫ টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪৩ টাকায়। এছাড়া ঢাকা-কক্সবাজার রুটে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে।

অন্যান্য রুটের মধ্যে ঢাকা-সিলেট রুটে মেইল ট্রেনের ভাড়া ১২৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা এবং কমিউটার ট্রেনের ভাড়া ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১৭০ টাকা হয়েছে। একই রুটে শোভন চেয়ারের ভাড়া ৩৫ টাকা বেড়ে ৪১০ টাকা, স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ৭১৯ টাকা থেকে বেড়ে ৭৮৮ টাকা এবং এসি সিটের ভাড়া ৮৬৩ টাকার বদলে ৯৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া এসি বার্থের ভাড়া ১২৭ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৬৫ টাকায়। রেলওয়ের তথ্যমতে, গত ১৩ বছরে অন্তত পাঁচ দফায় ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।

সেবার মান না বাড়িয়ে কেবল পূর্বাঞ্চলের নির্দিষ্ট ছয়টি রুটে কৌশলে ভাড়া বাড়ানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। এ বিষয়ে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি নাজের হোসাইন বলেন, পরিবহন মালিকদের যোগসাজশে রেলওয়ে এটি করছে বলে তাদের মনে হচ্ছে।

ভাড়া বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, রেলওয়ের নির্দিষ্ট ছয়টি রুটে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। মূলত পুরোনো সেতুগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ায় তা সমন্বয় করতে পন্টেজ চার্জ হিসেবে এই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

পরিবহন মালিকদের যোগসাজশে বাড়ল ট্রেনের ভাড়া?

নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৮:১৯

সরাসরি টিকিটের মূল্য না বাড়ালেও ‘পন্টেজ চার্জ’ বা সেতু ব্যবহারের মাশুল আরোপের মাধ্যমে কৌশলে ট্রেনের ভাড়া বাড়িয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের আওতাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজারসহ ছয়টি রুটে এই নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে। শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া এই ভাড়ার তালিকায় রুটভেদে যাত্রীদের এখন সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো রুটের মধ্যে সেতু বা সমজাতীয় অবকাঠামো থাকলে ভাড়ার সঙ্গে যে বাড়তি মাশুল ধরা হয়, তাকেই পন্টেজ চার্জ বলা হয়। নতুন এই পদ্ধতিতে ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুকে আড়াই কিলোমিটার দূরত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, এক কিলোমিটার লম্বা কোনো সেতুর দূরত্ব গণনা করা হবে ২৫ কিলোমিটার হিসেবে। এই কৌশলী হিসাবের ফলে কাগজে-কলমে পথের দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় টিকিটের সঙ্গে বাড়তি মাশুল যুক্ত হয়েছে।

ভাড়া বাড়ানো রুটগুলো হলো—ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজার, ঢাকা-সিলেট, চট্টগ্রাম-সিলেট, চট্টগ্রাম-জামালপুর ও ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ। এসব রুটের ১১টি সেতুতে পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হয়েছে। ভাড়ার তালিকা পর্যালোচানায় দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ২০২৪ সালে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহারের পর ছিল ৮৫৫ টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪৩ টাকায়। এছাড়া ঢাকা-কক্সবাজার রুটে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে।

অন্যান্য রুটের মধ্যে ঢাকা-সিলেট রুটে মেইল ট্রেনের ভাড়া ১২৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা এবং কমিউটার ট্রেনের ভাড়া ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১৭০ টাকা হয়েছে। একই রুটে শোভন চেয়ারের ভাড়া ৩৫ টাকা বেড়ে ৪১০ টাকা, স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ৭১৯ টাকা থেকে বেড়ে ৭৮৮ টাকা এবং এসি সিটের ভাড়া ৮৬৩ টাকার বদলে ৯৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া এসি বার্থের ভাড়া ১২৭ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৬৫ টাকায়। রেলওয়ের তথ্যমতে, গত ১৩ বছরে অন্তত পাঁচ দফায় ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।

সেবার মান না বাড়িয়ে কেবল পূর্বাঞ্চলের নির্দিষ্ট ছয়টি রুটে কৌশলে ভাড়া বাড়ানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। এ বিষয়ে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি নাজের হোসাইন বলেন, পরিবহন মালিকদের যোগসাজশে রেলওয়ে এটি করছে বলে তাদের মনে হচ্ছে।

ভাড়া বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, রেলওয়ের নির্দিষ্ট ছয়টি রুটে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। মূলত পুরোনো সেতুগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ায় তা সমন্বয় করতে পন্টেজ চার্জ হিসেবে এই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।