সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

তারেক রহমানের জয় ভারতের জন্য কী অর্থ বহন করে?

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও তারেক রহমানের জয় ভারতের জন্য কী বার্তা দিচ্ছে, তা নিয়ে একটি বিশদ বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

চন্দ্রশেখর শ্রীনিভাসনের করা ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পর তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের অধিকারকর্মী মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত উক্তির প্রতিধ্বনি করে বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। এখন ভারত, পুরো দক্ষিণ এশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র অপেক্ষা করছে তারেক রহমানের সেই পরিকল্পনাটি কী, তা দেখার জন্য।

বিশ্লেষণে বলা হয়, তারেক রহমানের এই জয়ের বিষয়টি শুক্রবার সকালেই লুফে নিয়েছে ভারত। চীন ও পাকিস্তানের আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের নতুন নেতাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ নিয়ে চীন ও পাকিস্তানের ‘স্নায়ুযুদ্ধে’ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। মোদি তার শুভেচ্ছা বার্তায় বলেছেন, তার সরকার একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করবে। চন্দ্রশেখর মনে করেন, এই বার্তাটি নবনির্বাচিত নেতাকে পাঠানো সাধারণ বার্তার মতো মনে হলেও এর অন্তর্নিহিত অর্থ স্পষ্ট। ভারত গত ১৮ মাসের অস্থিরতা পেছনে ফেলে বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল ও কার্যকরী সম্পর্ক গড়তে চায়, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে ‘পুরোনো মিত্র’ বাংলাদেশ তাদের পাশেই থাকবে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত বাংলাদেশের এই নির্বাচন খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছে। কারণ তাদের শঙ্কা, বাংলাদেশের নতুন সরকার কোনদিকে ঝুঁকে পড়ে, তার ওপর দক্ষিণ এশিয়া ও এর বাইরের আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং তাদের জাতীয় নিরাপত্তা প্রভাবিত হতে পারে। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে কৌশলগত ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিয়ে তিনটি প্রধান ভীতি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো সম্ভাব্য পাকিস্তান-চীন-বাংলাদেশ জোট। তাদের ধারণা, তারেক রহমান যদি শেখ হাসিনার চেয়ে ভারতকে কম গুরুত্ব দেন এবং ভারতের প্রতি কম বন্ধুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন, তবে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের জোট হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হবে। আর এমন জোট হলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের কর্তৃত্ব কমে যাবে।

এছাড়া ভারতের বিবেচনায় রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি। বিশেষ করে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও শেখ হাসিনার পতনের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ভারতবিদ্বেষী মনোভাবের কারণে ভারত তার নিজের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এর সঙ্গে বাণিজ্যের বিষয়টিও জড়িত, যদিও ভারতের জন্য এটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশ ও ভারত অর্থনৈতিক দিক দিয়ে একে অপরের প্রতি এমনিতেই অনেক নির্ভরশীল।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক ছিল। হাসিনা সরকার ছিল ‘ভারতপন্থী’, যা বাণিজ্য, যাতায়াত, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং পানিবণ্টন নিয়ে কাজ করেছে। যদিও ভারত হাসিনাকেই আবার ক্ষমতায় চাইত, কিন্তু আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করেছেন যে ভারত সরকার এখন বাংলাদেশের নেতৃত্বের পরিবর্তনটিকে স্বীকৃতি দেয়।

এনডিটিভি আরও উল্লেখ করে, যেহেতু বিএনপি এখন ক্ষমতায়, তাই ভারত এখন অহেতুক চিন্তিত হবে না। তারেক রহমান ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি ভারতের স্বার্থকে সম্মান করবেন। এটি নির্দেশ করে যে তিনি তার মা খালেদা জিয়ার ‘বাংলাদেশ ফাস্ট’ বা কট্টর জাতীয়তাবাদী নীতি থেকে সরে এসেছেন। তবে বাস্তব অর্থে এটি কী হবে, তা এই মুহূর্তে ভারতের জন্য একটি ‘অপেক্ষার খেলা’ হবে। তবে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর হলো জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসেনি। কারণ এটি হলে বাস্তবতা তাদের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আরও কঠিন হতো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

তারেক রহমানের জয় ভারতের জন্য কী অর্থ বহন করে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৪৭

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও তারেক রহমানের জয় ভারতের জন্য কী বার্তা দিচ্ছে, তা নিয়ে একটি বিশদ বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

চন্দ্রশেখর শ্রীনিভাসনের করা ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পর তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের অধিকারকর্মী মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত উক্তির প্রতিধ্বনি করে বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। এখন ভারত, পুরো দক্ষিণ এশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র অপেক্ষা করছে তারেক রহমানের সেই পরিকল্পনাটি কী, তা দেখার জন্য।

বিশ্লেষণে বলা হয়, তারেক রহমানের এই জয়ের বিষয়টি শুক্রবার সকালেই লুফে নিয়েছে ভারত। চীন ও পাকিস্তানের আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের নতুন নেতাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ নিয়ে চীন ও পাকিস্তানের ‘স্নায়ুযুদ্ধে’ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। মোদি তার শুভেচ্ছা বার্তায় বলেছেন, তার সরকার একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করবে। চন্দ্রশেখর মনে করেন, এই বার্তাটি নবনির্বাচিত নেতাকে পাঠানো সাধারণ বার্তার মতো মনে হলেও এর অন্তর্নিহিত অর্থ স্পষ্ট। ভারত গত ১৮ মাসের অস্থিরতা পেছনে ফেলে বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল ও কার্যকরী সম্পর্ক গড়তে চায়, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে ‘পুরোনো মিত্র’ বাংলাদেশ তাদের পাশেই থাকবে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত বাংলাদেশের এই নির্বাচন খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছে। কারণ তাদের শঙ্কা, বাংলাদেশের নতুন সরকার কোনদিকে ঝুঁকে পড়ে, তার ওপর দক্ষিণ এশিয়া ও এর বাইরের আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এবং তাদের জাতীয় নিরাপত্তা প্রভাবিত হতে পারে। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে কৌশলগত ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিয়ে তিনটি প্রধান ভীতি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো সম্ভাব্য পাকিস্তান-চীন-বাংলাদেশ জোট। তাদের ধারণা, তারেক রহমান যদি শেখ হাসিনার চেয়ে ভারতকে কম গুরুত্ব দেন এবং ভারতের প্রতি কম বন্ধুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন, তবে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের জোট হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হবে। আর এমন জোট হলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের কর্তৃত্ব কমে যাবে।

এছাড়া ভারতের বিবেচনায় রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি। বিশেষ করে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও শেখ হাসিনার পতনের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ভারতবিদ্বেষী মনোভাবের কারণে ভারত তার নিজের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এর সঙ্গে বাণিজ্যের বিষয়টিও জড়িত, যদিও ভারতের জন্য এটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যুর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশ ও ভারত অর্থনৈতিক দিক দিয়ে একে অপরের প্রতি এমনিতেই অনেক নির্ভরশীল।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক ছিল। হাসিনা সরকার ছিল ‘ভারতপন্থী’, যা বাণিজ্য, যাতায়াত, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং পানিবণ্টন নিয়ে কাজ করেছে। যদিও ভারত হাসিনাকেই আবার ক্ষমতায় চাইত, কিন্তু আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করেছেন যে ভারত সরকার এখন বাংলাদেশের নেতৃত্বের পরিবর্তনটিকে স্বীকৃতি দেয়।

এনডিটিভি আরও উল্লেখ করে, যেহেতু বিএনপি এখন ক্ষমতায়, তাই ভারত এখন অহেতুক চিন্তিত হবে না। তারেক রহমান ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি ভারতের স্বার্থকে সম্মান করবেন। এটি নির্দেশ করে যে তিনি তার মা খালেদা জিয়ার ‘বাংলাদেশ ফাস্ট’ বা কট্টর জাতীয়তাবাদী নীতি থেকে সরে এসেছেন। তবে বাস্তব অর্থে এটি কী হবে, তা এই মুহূর্তে ভারতের জন্য একটি ‘অপেক্ষার খেলা’ হবে। তবে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর হলো জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসেনি। কারণ এটি হলে বাস্তবতা তাদের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আরও কঠিন হতো।