সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

আইসিইউ-হীন চট্টগ্রামে দগ্ধদের ভোগান্তি চরমে, পথেই ঝরছে প্রাণ

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

চট্টগ্রামে আগুনে পোড়া ও দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় একমাত্র ভরসা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট। তবে ৬০ শয্যার এই ইউনিটে নিজস্ব নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) না থাকায় গুরুতর দগ্ধ রোগীদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় ঢাকায়। বর্তমানে আইসিইউ প্রয়োজন হলে চমেক হাসপাতালের অ্যানেসথেশিয়া ও আইসিইউ বিভাগের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা রোগীর তুলনায় বেশ অপ্রতুল।

চিকিৎসকরা জানান, চমেক হাসপাতালের ষষ্ঠ তলার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমানে বার্ন ইউনিটের কার্যক্রম চলছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, আইসিইউ না থাকা এবং রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে গুরুতর দগ্ধ রোগীদের এখানে পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপো এবং কদমরসুল এলাকায় সীমা অক্সিজেন লিমিটেড কারখানায় বিস্ফোরণের পর চট্টগ্রামে স্বতন্ত্র বার্ন ইউনিট স্থাপনের দাবি জোরালো হয়। এরপর চুক্তি হলেও কাজ শুরু হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

গত সোমবার নগরের হালিশহরের হালিমা মঞ্জিলে বিস্ফোরণে দগ্ধ ৯ জনকে চমেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শাখাওয়াত হোসেনের ব্যবসায়িক অংশীদার মনসুর আলী জানান, ঢাকায় নেওয়ার পথেই শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান বেগম মারা যান। তিনি আরও জানান, যাত্রাপথে সংক্রমণের ঝুঁকির পাশাপাশি ঢাকায় গিয়ে পুলিশি জটিলতাও পোহাতে হয়।

এর আগে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া সীমান্তবর্তী চরপাড়া এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারের গুদামে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ১০ জনকেও ঢাকায় পাঠাতে হয়, যাঁদের মধ্যে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বার্ন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এখানে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৪৪২ জন রোগীর মধ্যে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো ৫৮ জনের বেশিরভাগই বাঁচেননি। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ঢাকায় পাঠানো ১৩ জনের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ এস খালেদ জানান, একসঙ্গে অনেক রোগী এলে আইসিইউ সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। মাঝেমধ্যে অ্যানেসথেশিয়া বিভাগ থেকে দু-একটি আইসিইউ শয্যা পাওয়া যায়। তবে নতুন ভবনটি চালু হলে সেখানে ১০টি আইসিইউ থাকবে, তখন ঢাকায় রোগী পাঠানোর প্রবণতা কমবে।

এদিকে, গোঁয়াছি বাগান এলাকায় নির্মাণাধীন ১৫০ শয্যার নতুন বার্ন ইউনিটের কাজ শেষ হতে আরও দেড় বছর লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে দুই তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছে। চীনা প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে ২৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে। এর মধ্যে চীন সরকার দিচ্ছে ১৭৯ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ১০৫ কোটি টাকা।

প্রকল্প পরিচালক ও বার্ন ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক রফিক উদ্দিন আহমেদ জানান, চলতি বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং মেয়াদ বাড়াতে আবেদন করা হয়েছে। তিনি জানান, নতুন ভবন চালু না হওয়া পর্যন্ত গুরুতর রোগীদের ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে, তবে যতটুকু সম্ভব রোগীদের এখানেই সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

আইসিইউ-হীন চট্টগ্রামে দগ্ধদের ভোগান্তি চরমে, পথেই ঝরছে প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪১

চট্টগ্রামে আগুনে পোড়া ও দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় একমাত্র ভরসা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট। তবে ৬০ শয্যার এই ইউনিটে নিজস্ব নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) না থাকায় গুরুতর দগ্ধ রোগীদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় ঢাকায়। বর্তমানে আইসিইউ প্রয়োজন হলে চমেক হাসপাতালের অ্যানেসথেশিয়া ও আইসিইউ বিভাগের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা রোগীর তুলনায় বেশ অপ্রতুল।

চিকিৎসকরা জানান, চমেক হাসপাতালের ষষ্ঠ তলার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমানে বার্ন ইউনিটের কার্যক্রম চলছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, আইসিইউ না থাকা এবং রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে গুরুতর দগ্ধ রোগীদের এখানে পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপো এবং কদমরসুল এলাকায় সীমা অক্সিজেন লিমিটেড কারখানায় বিস্ফোরণের পর চট্টগ্রামে স্বতন্ত্র বার্ন ইউনিট স্থাপনের দাবি জোরালো হয়। এরপর চুক্তি হলেও কাজ শুরু হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

গত সোমবার নগরের হালিশহরের হালিমা মঞ্জিলে বিস্ফোরণে দগ্ধ ৯ জনকে চমেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শাখাওয়াত হোসেনের ব্যবসায়িক অংশীদার মনসুর আলী জানান, ঢাকায় নেওয়ার পথেই শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান বেগম মারা যান। তিনি আরও জানান, যাত্রাপথে সংক্রমণের ঝুঁকির পাশাপাশি ঢাকায় গিয়ে পুলিশি জটিলতাও পোহাতে হয়।

এর আগে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া সীমান্তবর্তী চরপাড়া এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারের গুদামে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ১০ জনকেও ঢাকায় পাঠাতে হয়, যাঁদের মধ্যে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বার্ন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এখানে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৪৪২ জন রোগীর মধ্যে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো ৫৮ জনের বেশিরভাগই বাঁচেননি। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ঢাকায় পাঠানো ১৩ জনের মধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ এস খালেদ জানান, একসঙ্গে অনেক রোগী এলে আইসিইউ সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। মাঝেমধ্যে অ্যানেসথেশিয়া বিভাগ থেকে দু-একটি আইসিইউ শয্যা পাওয়া যায়। তবে নতুন ভবনটি চালু হলে সেখানে ১০টি আইসিইউ থাকবে, তখন ঢাকায় রোগী পাঠানোর প্রবণতা কমবে।

এদিকে, গোঁয়াছি বাগান এলাকায় নির্মাণাধীন ১৫০ শয্যার নতুন বার্ন ইউনিটের কাজ শেষ হতে আরও দেড় বছর লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে দুই তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছে। চীনা প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে ২৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে। এর মধ্যে চীন সরকার দিচ্ছে ১৭৯ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ১০৫ কোটি টাকা।

প্রকল্প পরিচালক ও বার্ন ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক রফিক উদ্দিন আহমেদ জানান, চলতি বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং মেয়াদ বাড়াতে আবেদন করা হয়েছে। তিনি জানান, নতুন ভবন চালু না হওয়া পর্যন্ত গুরুতর রোগীদের ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে, তবে যতটুকু সম্ভব রোগীদের এখানেই সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।