সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটেও দেশে পৌঁছাচ্ছে জ্বালানি

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশের জ্বালানি খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত গত ২৩ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে এলএনজি, এলপিজি ও গ্যাস অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি বোঝাই ২৫টি জাহাজ নোঙর করলেও, হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট বাধার কারণে বেশ কয়েকটি জাহাজের আগমন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ‘ভেসেল অ্যারাইভাল লগ’ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ দিনে নোঙর করা ২৫টি জাহাজের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৩টি জাহাজ পণ্য খালাস করে বন্দর ত্যাগ করেছে। বর্তমানে ওমান থেকে এলপিজি বহনকারী ‘এলপিজি শেভান’ জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের কাজ চলছে। অন্যদিকে, থাইল্যান্ড থেকে বেস অয়েল নিয়ে আসা ‘এবি অলিভিয়া’ জাহাজটি পণ্য খালাসের অপেক্ষায় বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। এছাড়া আগামী ২৫ মার্চ ‘বেওয়েক বর্নহোল্ম’ ও ‘মর্নিং জেইন’ নামের আরও দুটি জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জাহাজগুলোর এই নিয়মিত আসা-যাওয়ার মাঝেও বড় ধরনের সংকটের আভাস দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া জাহাজগুলো। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রাফায়েত হামীম আজ রোববার জানান, বুকিং থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে বাধার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলএনজি বোঝাই আরও চারটি জাহাজ আসতে পারছে না। একই কারণে চাহিদা অনুযায়ী ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আসাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়ার কারণে বুকিং দেওয়া আরও দুটি জাহাজের মাধ্যমে এলএনজি আনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও সেগুলো দেশে পৌঁছাতে পারছে না। এর মধ্যে ‘লিব্রেথা’ নামের একটি জাহাজ এলএনজি লোড করার পরও চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারছে না। পাশাপাশি ‘ওয়াদি আল সেইল’ নামের আরেকটি জাহাজ এলএনজি লোড করার জন্য হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে টার্মিনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।

এলএনজির স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের সিনিয়র ডিজিএম নুরুল আলম জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ টন এলএনজি নিয়ে পাঁচটি জাহাজ বন্দরে এসেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে আসা ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামের দুটি জাহাজের পণ্য ইতোমধ্যে খালাস করা হয়েছে। পরবর্তীতে ‘লুসাইল’ ও ‘আল গালায়েল’ নামের আরও দুটি জাহাজও বন্দরে পৌঁছায়। তবে চলতি মাসে বুকিং থাকার পরও চারটি জাহাজে এলএনজি কম আসার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) ইতোমধ্যে গ্যাসের দৈনিক সরবরাহ প্রায় ২০ কোটি ঘনফুট কমিয়ে দিয়েছে। সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন এবং দুটি জাহাজ আসার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় গত সপ্তাহে খোলাবাজার থেকে চড়া দামে দুটি এলএনজি কার্গো কিনতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি। পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, যুদ্ধ শুরুর আগে যে এলএনজি প্রতি ইউনিট মাত্র ১০ ডলারে কেনা হতো, তা এখন গানভর কোম্পানির কাছ থেকে ২৮ ডলার এবং সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়ার কাছ থেকে সাড়ে ২৪ ডলার দরে কেনা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ২৩ লাখ ৩৭ হাজার টন এলএনজি আমদানির শুল্কায়ন হয়েছে, যার সিংহভাগই এসেছে কাতার থেকে। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এই সরবরাহ চেইন আরও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

মধ্যপ্রাচ্য সংকটেও দেশে পৌঁছাচ্ছে জ্বালানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ মার্চ ২০২৬, ২১:২১

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশের জ্বালানি খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত গত ২৩ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে এলএনজি, এলপিজি ও গ্যাস অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি বোঝাই ২৫টি জাহাজ নোঙর করলেও, হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট বাধার কারণে বেশ কয়েকটি জাহাজের আগমন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ‘ভেসেল অ্যারাইভাল লগ’ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ দিনে নোঙর করা ২৫টি জাহাজের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৩টি জাহাজ পণ্য খালাস করে বন্দর ত্যাগ করেছে। বর্তমানে ওমান থেকে এলপিজি বহনকারী ‘এলপিজি শেভান’ জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের কাজ চলছে। অন্যদিকে, থাইল্যান্ড থেকে বেস অয়েল নিয়ে আসা ‘এবি অলিভিয়া’ জাহাজটি পণ্য খালাসের অপেক্ষায় বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। এছাড়া আগামী ২৫ মার্চ ‘বেওয়েক বর্নহোল্ম’ ও ‘মর্নিং জেইন’ নামের আরও দুটি জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

জাহাজগুলোর এই নিয়মিত আসা-যাওয়ার মাঝেও বড় ধরনের সংকটের আভাস দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া জাহাজগুলো। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রাফায়েত হামীম আজ রোববার জানান, বুকিং থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে বাধার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলএনজি বোঝাই আরও চারটি জাহাজ আসতে পারছে না। একই কারণে চাহিদা অনুযায়ী ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আসাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়ার কারণে বুকিং দেওয়া আরও দুটি জাহাজের মাধ্যমে এলএনজি আনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও সেগুলো দেশে পৌঁছাতে পারছে না। এর মধ্যে ‘লিব্রেথা’ নামের একটি জাহাজ এলএনজি লোড করার পরও চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারছে না। পাশাপাশি ‘ওয়াদি আল সেইল’ নামের আরেকটি জাহাজ এলএনজি লোড করার জন্য হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে টার্মিনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।

এলএনজির স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের সিনিয়র ডিজিএম নুরুল আলম জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ টন এলএনজি নিয়ে পাঁচটি জাহাজ বন্দরে এসেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে আসা ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামের দুটি জাহাজের পণ্য ইতোমধ্যে খালাস করা হয়েছে। পরবর্তীতে ‘লুসাইল’ ও ‘আল গালায়েল’ নামের আরও দুটি জাহাজও বন্দরে পৌঁছায়। তবে চলতি মাসে বুকিং থাকার পরও চারটি জাহাজে এলএনজি কম আসার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) ইতোমধ্যে গ্যাসের দৈনিক সরবরাহ প্রায় ২০ কোটি ঘনফুট কমিয়ে দিয়েছে। সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন এবং দুটি জাহাজ আসার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় গত সপ্তাহে খোলাবাজার থেকে চড়া দামে দুটি এলএনজি কার্গো কিনতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি। পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, যুদ্ধ শুরুর আগে যে এলএনজি প্রতি ইউনিট মাত্র ১০ ডলারে কেনা হতো, তা এখন গানভর কোম্পানির কাছ থেকে ২৮ ডলার এবং সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়ার কাছ থেকে সাড়ে ২৪ ডলার দরে কেনা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ২৩ লাখ ৩৭ হাজার টন এলএনজি আমদানির শুল্কায়ন হয়েছে, যার সিংহভাগই এসেছে কাতার থেকে। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এই সরবরাহ চেইন আরও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।