সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বন উজাড়, বিপন্ন বন্যপ্রাণী

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

দেশের বৃহত্তম বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে গিয়ে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপকূলে হাজার হাজার একর বন উজাড় হওয়ায় চরম হুমকির মুখে পড়েছে বন্যপ্রাণী। সম্প্রতি সেখানে একটি চিত্রা হরিণ নির্মমভাবে জবাই করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এই অঞ্চলের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার ও বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, জলাশয়ের কিনারে এক ব্যক্তি একটি চিত্রা হরিণের পা চেপে ধরে আছেন এবং অন্যজন দা দিয়ে কুপিয়ে সেটির গলা কাটার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ এখনো চোখে পড়েনি।

পরিবেশ সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, বন উজাড়ের ফলে শুধু পরিবেশই ধ্বংস হচ্ছে না, অরক্ষিত হয়ে পড়ছে খোদ অর্থনৈতিক অঞ্চলও। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের মতো বড় কোনো প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানলে বনের এই শূন্যতা তীব্রভাবে অনুভূত হবে।

বন বিভাগের তথ্যমতে, আগে মীরসরাইয়ের উপকূলীয় অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সবুজ ম্যানগ্রোভ বন ছিল। কয়েক হাজার হরিণের পাশাপাশি এটি ছিল বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, শিয়াল, মেছো বাঘ ও শত প্রজাতির পাখির আশ্রয়স্থল। কিন্তু ২০১০ সালে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৬ হাজার ৩১৪ একর বনভূমি উজাড় হয়েছে। সাড়ে তিন লাখ গাছ এবং বন্যপ্রাণীর একসময়ের বিশাল অভয়ারণ্য এখন পরিণত হয়েছে ধু-ধু প্রান্তরে।

মীরসরাই উপকূলীয় বনরেঞ্জ কর্মকর্তা নওশাদ আলম জানান, উন্নয়নের প্রয়োজনে শিল্পাঞ্চল হলেও বনায়নের দায়িত্ব বন বিভাগকে দেওয়া হলে তারা তা সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারতেন।

তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অতীতে যেকোনো দুর্যোগে এই বন বুক পেতে দিয়ে জানমাল রক্ষা করত। এখন দুর্যোগ সরাসরি অর্থনৈতিক অঞ্চলে আঘাত হানলে সম্পদের বড় ক্ষতি হতে পারে।

মীরসরাইয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও পানি সম্পদ ফোরামের সভাপতি ডা. জামশেদ আলম অভিযোগ করে বলেন, কাগজে-কলমে গাছ রোপণের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই।

তবে অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, তারা কাগজে-কলমে ৭০০ একর জমিতে বনায়ন কর্মসূচি নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক সেজুতি বড়ুয়া জানান, সুপার ডাইকের পশ্চিম পাশে কিছু বন সৃজন করা হয়েছে। এছাড়া সব কারখানায় ৬০ শতাংশ স্থানে সবুজায়নের নির্দেশনা দিয়ে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো এলাকায় সবুজায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক আবু তৈয়ব জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে খুব শিগগিরই সেখানে ৩০ থেকে ৪০ লাখ গাছ লাগানোর কাজ শুরু হবে। পুরো অঞ্চলের সুরক্ষায় বৃহত্তর প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বন উজাড়, বিপন্ন বন্যপ্রাণী

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৬

দেশের বৃহত্তম বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে গিয়ে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপকূলে হাজার হাজার একর বন উজাড় হওয়ায় চরম হুমকির মুখে পড়েছে বন্যপ্রাণী। সম্প্রতি সেখানে একটি চিত্রা হরিণ নির্মমভাবে জবাই করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এই অঞ্চলের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার ও বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, জলাশয়ের কিনারে এক ব্যক্তি একটি চিত্রা হরিণের পা চেপে ধরে আছেন এবং অন্যজন দা দিয়ে কুপিয়ে সেটির গলা কাটার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ এখনো চোখে পড়েনি।

পরিবেশ সচেতন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, বন উজাড়ের ফলে শুধু পরিবেশই ধ্বংস হচ্ছে না, অরক্ষিত হয়ে পড়ছে খোদ অর্থনৈতিক অঞ্চলও। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের মতো বড় কোনো প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানলে বনের এই শূন্যতা তীব্রভাবে অনুভূত হবে।

বন বিভাগের তথ্যমতে, আগে মীরসরাইয়ের উপকূলীয় অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সবুজ ম্যানগ্রোভ বন ছিল। কয়েক হাজার হরিণের পাশাপাশি এটি ছিল বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, শিয়াল, মেছো বাঘ ও শত প্রজাতির পাখির আশ্রয়স্থল। কিন্তু ২০১০ সালে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৬ হাজার ৩১৪ একর বনভূমি উজাড় হয়েছে। সাড়ে তিন লাখ গাছ এবং বন্যপ্রাণীর একসময়ের বিশাল অভয়ারণ্য এখন পরিণত হয়েছে ধু-ধু প্রান্তরে।

মীরসরাই উপকূলীয় বনরেঞ্জ কর্মকর্তা নওশাদ আলম জানান, উন্নয়নের প্রয়োজনে শিল্পাঞ্চল হলেও বনায়নের দায়িত্ব বন বিভাগকে দেওয়া হলে তারা তা সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারতেন।

তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অতীতে যেকোনো দুর্যোগে এই বন বুক পেতে দিয়ে জানমাল রক্ষা করত। এখন দুর্যোগ সরাসরি অর্থনৈতিক অঞ্চলে আঘাত হানলে সম্পদের বড় ক্ষতি হতে পারে।

মীরসরাইয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও পানি সম্পদ ফোরামের সভাপতি ডা. জামশেদ আলম অভিযোগ করে বলেন, কাগজে-কলমে গাছ রোপণের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই।

তবে অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, তারা কাগজে-কলমে ৭০০ একর জমিতে বনায়ন কর্মসূচি নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক সেজুতি বড়ুয়া জানান, সুপার ডাইকের পশ্চিম পাশে কিছু বন সৃজন করা হয়েছে। এছাড়া সব কারখানায় ৬০ শতাংশ স্থানে সবুজায়নের নির্দেশনা দিয়ে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো এলাকায় সবুজায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক আবু তৈয়ব জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে খুব শিগগিরই সেখানে ৩০ থেকে ৪০ লাখ গাছ লাগানোর কাজ শুরু হবে। পুরো অঞ্চলের সুরক্ষায় বৃহত্তর প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।