সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ভুল তথ্য নাকচ বাংলাদেশের

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির অনেক উপাত্তই ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ।

এই বিষয়টি সংশোধনের তাগাদা দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতিসংঘ ব্যবস্থার অধীন নিবন্ধিত তথ্যই রোহিঙ্গাদের সঠিক সংখ্যা প্রতিফলিত করে।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালক (মিয়ানমার অনুবিভাগ) মো. তৌফিক-উর-রহমান বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মোর সঙ্গে নিজ কার্যালয়ে বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরেন।

বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গত শনিবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ থেকে দেওয়া আট লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর একটি তালিকা তারা যাচাই করেছে।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের দাবি, যাচাই করা চার লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ ব্যক্তির মধ্যে তিন লাখ আট হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের বাসিন্দা ছিলেন।

মিয়ানমারের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ ব্যক্তির পরিচয় সফলভাবে যাচাই করা যায়নি এবং চার হাজার ২৪১ জন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন।

একই সঙ্গে রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার বিষয়টিও মিয়ানমার সরকার অস্বীকার করেছে।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. তৌফিক-উর-রহমান দুই দেশের সম্মত দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর ভিত্তিতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মোকে অনুরোধ জানান।

তাঁদের মধ্যে শরণার্থীশিবিরে জন্মগ্রহণকারী শিশু এবং ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়া নতুন আগমনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ বর্তমানে তাঁদের নিবন্ধনের কাজ করছে এবং আট লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের প্রাথমিক তালিকার পরের রোহিঙ্গাদের তথ্য যথাসময়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিনিময় করা হবে।

মো. তৌফিক-উর-রহমান যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় এই অতিরিক্ত তথ্যগুলো সঠিকভাবে প্রতিফলিত করার অনুরোধ জানান।

তিনি মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মোকে আরও জানান, রোহিঙ্গারা বাঙালি নন, কারণ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সম্প্রতি পর্যন্ত স্বীকৃত তাঁদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয় রয়েছে।

এ সময় রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো বাংলাদেশের উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণগুলো তাঁর দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

পাশাপাশি তিনি যাচাই করা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে তাঁর সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. তৌফিক-উর-রহমান আবারও বলেন, এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান নিহিত রয়েছে রোহিঙ্গাদের তাঁদের নিজ ভিটেমাটি রাখাইনে নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের মধ্যে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সামরিক অভিযানের কারণে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা, যা বাংলাদেশের হিসাবে আট লাখের বেশি, সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়।

এর আগে থেকেই বাংলাদেশের কক্সবাজারে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন।

মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও জাতিগত মিলিশিয়াদের নৃশংস সহিংসতা থেকে রক্ষা পেতে এসব সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ভুল তথ্য নাকচ বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ আগস্ট ২০২৬, ২২:১১

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির অনেক উপাত্তই ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ।

এই বিষয়টি সংশোধনের তাগাদা দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতিসংঘ ব্যবস্থার অধীন নিবন্ধিত তথ্যই রোহিঙ্গাদের সঠিক সংখ্যা প্রতিফলিত করে।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মহাপরিচালক (মিয়ানমার অনুবিভাগ) মো. তৌফিক-উর-রহমান বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মোর সঙ্গে নিজ কার্যালয়ে বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরেন।

বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

গত শনিবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ থেকে দেওয়া আট লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর একটি তালিকা তারা যাচাই করেছে।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের দাবি, যাচাই করা চার লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ ব্যক্তির মধ্যে তিন লাখ আট হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের বাসিন্দা ছিলেন।

মিয়ানমারের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ ব্যক্তির পরিচয় সফলভাবে যাচাই করা যায়নি এবং চার হাজার ২৪১ জন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন।

একই সঙ্গে রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার বিষয়টিও মিয়ানমার সরকার অস্বীকার করেছে।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. তৌফিক-উর-রহমান দুই দেশের সম্মত দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর ভিত্তিতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মোকে অনুরোধ জানান।

তাঁদের মধ্যে শরণার্থীশিবিরে জন্মগ্রহণকারী শিশু এবং ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়া নতুন আগমনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ বর্তমানে তাঁদের নিবন্ধনের কাজ করছে এবং আট লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের প্রাথমিক তালিকার পরের রোহিঙ্গাদের তথ্য যথাসময়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিনিময় করা হবে।

মো. তৌফিক-উর-রহমান যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় এই অতিরিক্ত তথ্যগুলো সঠিকভাবে প্রতিফলিত করার অনুরোধ জানান।

তিনি মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মোকে আরও জানান, রোহিঙ্গারা বাঙালি নন, কারণ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সম্প্রতি পর্যন্ত স্বীকৃত তাঁদের নিজস্ব জাতিগত পরিচয় রয়েছে।

এ সময় রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো বাংলাদেশের উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণগুলো তাঁর দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

পাশাপাশি তিনি যাচাই করা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে তাঁর সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. তৌফিক-উর-রহমান আবারও বলেন, এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান নিহিত রয়েছে রোহিঙ্গাদের তাঁদের নিজ ভিটেমাটি রাখাইনে নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের মধ্যে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সামরিক অভিযানের কারণে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা, যা বাংলাদেশের হিসাবে আট লাখের বেশি, সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়।

এর আগে থেকেই বাংলাদেশের কক্সবাজারে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন।

মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও জাতিগত মিলিশিয়াদের নৃশংস সহিংসতা থেকে রক্ষা পেতে এসব সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন।