সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

জলাবদ্ধতা নিরসনে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চায় চসিক

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রামে চলমান মেগা প্রকল্পের আওতা বহির্ভূত ১৪শ কিলোমিটারেরও বেশি সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি ড্রেন এবং খাল রয়েছে। বর্ষার আগে এসব ড্রেন ও খাল পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ১০০ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। কিন্তু দেনার দায়ে জর্জরিত চসিকের পক্ষে এত টাকা ব্যয় করা সম্ভব নয়। তাই স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে চসিক।

চসিকের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, মেগা প্রকল্পভুক্ত ৩৬টি খাল ছাড়াও আরও অনেক খাল রয়েছে। এসব খাল নিয়মিত পরিষ্কার করতে পারলে নগরবাসী জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে। কিন্তু খাল পরিষ্কারে যে ব্যয় হবে তা বহন করার আর্থিক সক্ষমতা চসিকের নেই। তিনি বলেন, “আমি যখন দায়িত্ব নিয়েছি তখন ৪১১ কোটি টাকার বেশি দেনা ছিল কর্পোরেশনের। থোক বরাদ্দ দিয়ে যে কাজ করব সে সুযোগও নেই।”

তিনি আরও জানান, সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত এক সভায় আগামী চার মাসের মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় সম্পর্কে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছে। খাল পরিষ্কার রাখতে এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে অর্থের প্রয়োজন। তাই ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে সিডিএ বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতাভুক্ত খালগুলো বাদ দিয়ে বাকি প্রায় ১৪শ কিলোমিটারের অধিক বিভিন্ন সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি ড্রেন ও খাল পরিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই ড্রেনগুলো থেকে মাটি ও বর্জ্য অপসারণ করে নিরবচ্ছিন্ন পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে আগামী বর্ষায় সম্ভাব্য জলমগ্নতার মাত্রা অনেকটাই কমে আসবে। পরিষ্কার কার্যক্রমটি জটিল এবং বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। তাই সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আনুমানিক ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। বর্তমানে একসাথে এত টাকা খরচ করার মতো আর্থিক সক্ষমতা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নেই এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিরও অভাব রয়েছে।

চিঠিতে নগরবাসীর দুর্দশা লাঘবে শুষ্ক মৌসুমে চসিকের বিভিন্ন ধরনের ড্রেন থেকে মাটি ও বর্জ্য উত্তোলন এবং অপসারণের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে চসিককে ১০০ কোটি টাকা প্রাথমিক বরাদ্দ প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একই চিঠিতে বলা হয়, জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে চট্টগ্রাম শহরে চলমান প্রকল্পসমূহের আওতায় খাল-নালা প্রশস্তকরণ, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, স্লুইচ গেইট স্থাপনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড চলমান থাকা সত্ত্বেও গত বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামবাসী জলাবদ্ধতায় নাকাল হয়ে পড়েছিল। মূলত ভারি বৃষ্টিপাত এবং খাল-নালাসমূহে প্রচুর পরিমাণ বর্জ্য ও মাটি জমে থাকায় পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে শহরে কয়েকবার জলাবদ্ধতার ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

জলাবদ্ধতা নিরসনে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চায় চসিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:৪১

জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রামে চলমান মেগা প্রকল্পের আওতা বহির্ভূত ১৪শ কিলোমিটারেরও বেশি সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি ড্রেন এবং খাল রয়েছে। বর্ষার আগে এসব ড্রেন ও খাল পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ১০০ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। কিন্তু দেনার দায়ে জর্জরিত চসিকের পক্ষে এত টাকা ব্যয় করা সম্ভব নয়। তাই স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে চসিক।

চসিকের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, মেগা প্রকল্পভুক্ত ৩৬টি খাল ছাড়াও আরও অনেক খাল রয়েছে। এসব খাল নিয়মিত পরিষ্কার করতে পারলে নগরবাসী জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে। কিন্তু খাল পরিষ্কারে যে ব্যয় হবে তা বহন করার আর্থিক সক্ষমতা চসিকের নেই। তিনি বলেন, “আমি যখন দায়িত্ব নিয়েছি তখন ৪১১ কোটি টাকার বেশি দেনা ছিল কর্পোরেশনের। থোক বরাদ্দ দিয়ে যে কাজ করব সে সুযোগও নেই।”

তিনি আরও জানান, সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত এক সভায় আগামী চার মাসের মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় সম্পর্কে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছে। খাল পরিষ্কার রাখতে এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে অর্থের প্রয়োজন। তাই ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে সিডিএ বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতাভুক্ত খালগুলো বাদ দিয়ে বাকি প্রায় ১৪শ কিলোমিটারের অধিক বিভিন্ন সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি ড্রেন ও খাল পরিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই ড্রেনগুলো থেকে মাটি ও বর্জ্য অপসারণ করে নিরবচ্ছিন্ন পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে আগামী বর্ষায় সম্ভাব্য জলমগ্নতার মাত্রা অনেকটাই কমে আসবে। পরিষ্কার কার্যক্রমটি জটিল এবং বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। তাই সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আনুমানিক ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। বর্তমানে একসাথে এত টাকা খরচ করার মতো আর্থিক সক্ষমতা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নেই এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিরও অভাব রয়েছে।

চিঠিতে নগরবাসীর দুর্দশা লাঘবে শুষ্ক মৌসুমে চসিকের বিভিন্ন ধরনের ড্রেন থেকে মাটি ও বর্জ্য উত্তোলন এবং অপসারণের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে চসিককে ১০০ কোটি টাকা প্রাথমিক বরাদ্দ প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একই চিঠিতে বলা হয়, জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে চট্টগ্রাম শহরে চলমান প্রকল্পসমূহের আওতায় খাল-নালা প্রশস্তকরণ, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, স্লুইচ গেইট স্থাপনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড চলমান থাকা সত্ত্বেও গত বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামবাসী জলাবদ্ধতায় নাকাল হয়ে পড়েছিল। মূলত ভারি বৃষ্টিপাত এবং খাল-নালাসমূহে প্রচুর পরিমাণ বর্জ্য ও মাটি জমে থাকায় পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে শহরে কয়েকবার জলাবদ্ধতার ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।