সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

রাউজানে সন্ত্রাসের রাজত্ব: প্রতিদিন গোলাগুলি, আতঙ্কে জনজীবন

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব থামছে না রাউজানে। প্রায় প্রতিদিনই গোলাগুলির শব্দে মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে আছে। নোয়াপাড়া, পূর্ব গুজরা, বাগোয়ান, কদলপুর এলাকার জনসাধারণ জানান, সন্ধ্যার পর গ্রামীণ রাস্তায় চলাচলে ভয় পাচ্ছে মানুষ।

সর্বশেষ গতকাল ২৪ জানুয়ারি মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা নোয়াপাড়ায় নিরপরাধ এক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় আরো দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, দ্বিধা বিভক্ত বিএনপির আধিপত্য বিস্তারের খেলায় ৫ আগস্ট থেকে উপজেলায় ত্রাসের রাজত্ব চলছে। স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে এ পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত অর্ধশতবার সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ।

জানা যায়, পাহাড় ও কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ভরাট কাজের ব্যবসা, চাঁদাবাজির এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এ ধরণের ঘটনা ঘটছে। এসব কাজে জড়িতরা বিএনপি নেতাকর্মী বলে পরিচয় দিচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ কাজে দেড় কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসীরা। টাকা না পেয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

কদলপুর ইউনিয়নে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে বেড়ায় সন্ত্রাসীরা। সেখানে পাহাড় কাটার মাটি বিক্রি নিয়ে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। গত দুই মাসে একাধিকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

নোয়াজিশপুর ফতেহনগর এলাকায় বিএনপির এক গ্রুপ প্রতিপক্ষ গ্রুপের এক কর্মীকে গুলি করে। হলদিয়া, ডাবুয়া, বিনাজুরী, নোয়াপাড়া, বাগোয়ান, পাহাড়তলী, পূর্বগুজরাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায়শই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি নেতারা জানান, রাউজানের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ১৭ বছর নির্বাসনে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকায় এসে দুই নেতার রাজনীতির বিভক্তির সুযোগ নিয়ে চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য গড়তে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

স্থানীয় দুই সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বিভিন্ন সভাসমাবেশে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বার বার সাবধান বাণী উচ্চারণ করে আসছেন।

রাউজান থানার ওসি একেএম সফিকুল আলম চৌধুরী জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যেখানে ঘটছে সেখানে পুলিশ যাচ্ছে। এসব ঘটনা প্রতিরোধে এলাকার মানুষের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। বেশির ভাগ ঘটনায় বিএনপির দুই বিভক্ত গ্রুপ জড়িত বলে তিনি স্বীকার করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

রাউজানে সন্ত্রাসের রাজত্ব: প্রতিদিন গোলাগুলি, আতঙ্কে জনজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ জানুয়ারি ২০২৫, ২১:১৫

গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব থামছে না রাউজানে। প্রায় প্রতিদিনই গোলাগুলির শব্দে মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে আছে। নোয়াপাড়া, পূর্ব গুজরা, বাগোয়ান, কদলপুর এলাকার জনসাধারণ জানান, সন্ধ্যার পর গ্রামীণ রাস্তায় চলাচলে ভয় পাচ্ছে মানুষ।

সর্বশেষ গতকাল ২৪ জানুয়ারি মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা নোয়াপাড়ায় নিরপরাধ এক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় আরো দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, দ্বিধা বিভক্ত বিএনপির আধিপত্য বিস্তারের খেলায় ৫ আগস্ট থেকে উপজেলায় ত্রাসের রাজত্ব চলছে। স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে এ পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত অর্ধশতবার সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ।

জানা যায়, পাহাড় ও কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ভরাট কাজের ব্যবসা, চাঁদাবাজির এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এ ধরণের ঘটনা ঘটছে। এসব কাজে জড়িতরা বিএনপি নেতাকর্মী বলে পরিচয় দিচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ কাজে দেড় কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে সন্ত্রাসীরা। টাকা না পেয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

কদলপুর ইউনিয়নে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে বেড়ায় সন্ত্রাসীরা। সেখানে পাহাড় কাটার মাটি বিক্রি নিয়ে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। গত দুই মাসে একাধিকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

নোয়াজিশপুর ফতেহনগর এলাকায় বিএনপির এক গ্রুপ প্রতিপক্ষ গ্রুপের এক কর্মীকে গুলি করে। হলদিয়া, ডাবুয়া, বিনাজুরী, নোয়াপাড়া, বাগোয়ান, পাহাড়তলী, পূর্বগুজরাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায়শই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি নেতারা জানান, রাউজানের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ১৭ বছর নির্বাসনে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকায় এসে দুই নেতার রাজনীতির বিভক্তির সুযোগ নিয়ে চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য গড়তে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

স্থানীয় দুই সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বিভিন্ন সভাসমাবেশে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বার বার সাবধান বাণী উচ্চারণ করে আসছেন।

রাউজান থানার ওসি একেএম সফিকুল আলম চৌধুরী জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যেখানে ঘটছে সেখানে পুলিশ যাচ্ছে। এসব ঘটনা প্রতিরোধে এলাকার মানুষের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। বেশির ভাগ ঘটনায় বিএনপির দুই বিভক্ত গ্রুপ জড়িত বলে তিনি স্বীকার করেন।