সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার ফুল

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

অমর একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতি। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে শহীদ মিনারগুলোতে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়।

রাত ১২টা বাজার আগেই হাতে ফুল নিয়ে হাজার হাজার মানুষ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে যান। প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এসময় অমর একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি…’ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি করে।

ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ভিন্ন প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দ্বিতীয়বার এবং প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রথমবার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান মুহাম্মদ ইউনূস।

এরপর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদসহ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলী, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, হাইকমিশনার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, অ্যাটর্নি জেনারেল, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

রাত ১২টা ৪০ মিনিট থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু করেন।

জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে এবারের একুশের আয়োজনে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার দেয়ালগুলোতে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন স্লোগান, কবিতা, গানের লাইন ও গ্রাফিতি।

মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালির আত্মত্যাগের এই দিনটি এখন শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে।
ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য স্থানেও শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।

বিএনপি এবারও একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসেনি। তবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বিপ্লবী ধারা, বাংলাদেশ কংগ্রেস, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, গণফোরাম, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের প্রতিনিধিদল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

শুক্রবার দিনভর শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন চলবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আশপাশের রাস্তা আলপনায় রাঙিয়ে তুলেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার ফুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০১:৩৪

অমর একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতি। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে শহীদ মিনারগুলোতে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়।

রাত ১২টা বাজার আগেই হাতে ফুল নিয়ে হাজার হাজার মানুষ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে যান। প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এসময় অমর একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি…’ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি করে।

ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ভিন্ন প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দ্বিতীয়বার এবং প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রথমবার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান মুহাম্মদ ইউনূস।

এরপর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদসহ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলী, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, হাইকমিশনার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, অ্যাটর্নি জেনারেল, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

রাত ১২টা ৪০ মিনিট থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু করেন।

জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে এবারের একুশের আয়োজনে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার দেয়ালগুলোতে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন স্লোগান, কবিতা, গানের লাইন ও গ্রাফিতি।

মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালির আত্মত্যাগের এই দিনটি এখন শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে।
ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য স্থানেও শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।

বিএনপি এবারও একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসেনি। তবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বিপ্লবী ধারা, বাংলাদেশ কংগ্রেস, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, গণফোরাম, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের প্রতিনিধিদল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

শুক্রবার দিনভর শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন চলবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আশপাশের রাস্তা আলপনায় রাঙিয়ে তুলেছেন।