সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

চট্টগ্রামে পাসপোর্ট সেবা: রাজস্ব আয়ে শীর্ষে, ভোগান্তিতেও শীর্ষে!

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

চট্টগ্রামের দুটি পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে সরকার প্রতিবছর দেড়শ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় করলেও, সেবাগ্রহীতারা বলছেন, ভোগান্তির অপর নাম যেন পাসপোর্ট সেবা। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ সেবা নিতে এসে পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জনবল সংকট ও সেকেলে পদ্ধতির কারণে এই ভোগান্তি দীর্ঘদিনের।

সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে প্রতিদিন গড়ে এক হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। প্রায় সমসংখ্যক মানুষ আসেন পাসপোর্ট ডেলিভারি নিতে। এনরোলমেন্ট ও ডেলিভারি সেকশনের সামনে সবসময়ই থাকে লম্বা লাইন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন স্বল্পসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

ভুক্তভোগীরা জানান, একজন আবেদনকারীর এনরোলমেন্ট কার্যক্রম শেষ করতে যেখানে ৮-১০ মিনিট সময় লাগার কথা, সেখানে চাপের মুখে ৩-৫ মিনিটে শেষ করতে বাধ্য হচ্ছেন কর্মকর্তারা। ফলে, প্রায়ই আবেদনকারীদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বাকবিতণ্ডা হচ্ছে। দুপুরের খাবারের বিরতিতে ভোগান্তি আরও বাড়ে। লাইনে অপেক্ষমাণ সেবাগ্রহীতারা কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার অভিযোগও করেন।

পাসপোর্ট সেবা পেতে আসা লোকজনের অভিযোগ, চট্টগ্রাম কার্যালয়গুলোতে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম নেই। ফলে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অথচ, ঢাকার পাসপোর্ট অফিসগুলোতে এই সিস্টেম চালু থাকায় ভোগান্তি অনেক কম।

অন্যদিকে, রাজস্ব আয়ের দিক থেকে চট্টগ্রামের পাসপোর্ট কার্যালয়গুলো বেশ এগিয়ে। বিভাগীয় পাসপোর্ট কার্যালয় গত চার অর্থবছরে ৩৫৩ কোটি ৪৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫০ টাকা রাজস্ব আয় করেছে। আঞ্চলিক কার্যালয় থেকেও গত পাঁচ বছরে প্রায় ৭০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান, “স্বল্পসংখ্যক জনবল নিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষকে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। বিশেষ করে, এনরোলমেন্ট শাখায় চাপ থাকে সবচেয়ে বেশি।”

মনসুরাবাদ বিভাগীয় পাসপোর্ট কার্যালয়ের চিত্রও একই। প্রতিদিন প্রায় ১২০০ সেবাপ্রার্থীর চাপ সামলাতে হয় মুষ্টিমেয় কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট কার্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম চালু করা হোক। সেইসঙ্গে, সেবার মান উন্নয়নের জন্য কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান সাইদুল ইসলাম বলেন, “সেবার মান বাড়াতে নিয়মিত বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জনবল সংকটের বিষয়টিও আমাদের নজরে আছে।” শিডিউল সিস্টেম চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, “কিছু জটিলতার কারণে আপাতত এটি বন্ধ রাখা হয়েছে।”

একুশে পত্রিকা সম্পাদক নজরুল কবির দীপু বলেন, “চট্টগ্রামের পাসপোর্ট কার্যালয়গুলো একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস, তেমনি সেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে চরম অসন্তোষ। এ অবস্থায়, জনবল সংকট নিরসন ও আধুনিকায়ন করে পাসপোর্ট সেবাকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করা উচিত।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

চট্টগ্রামে পাসপোর্ট সেবা: রাজস্ব আয়ে শীর্ষে, ভোগান্তিতেও শীর্ষে!

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৩:০২

চট্টগ্রামের দুটি পাসপোর্ট কার্যালয় থেকে সরকার প্রতিবছর দেড়শ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় করলেও, সেবাগ্রহীতারা বলছেন, ভোগান্তির অপর নাম যেন পাসপোর্ট সেবা। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ সেবা নিতে এসে পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জনবল সংকট ও সেকেলে পদ্ধতির কারণে এই ভোগান্তি দীর্ঘদিনের।

সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ে প্রতিদিন গড়ে এক হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। প্রায় সমসংখ্যক মানুষ আসেন পাসপোর্ট ডেলিভারি নিতে। এনরোলমেন্ট ও ডেলিভারি সেকশনের সামনে সবসময়ই থাকে লম্বা লাইন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন স্বল্পসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

ভুক্তভোগীরা জানান, একজন আবেদনকারীর এনরোলমেন্ট কার্যক্রম শেষ করতে যেখানে ৮-১০ মিনিট সময় লাগার কথা, সেখানে চাপের মুখে ৩-৫ মিনিটে শেষ করতে বাধ্য হচ্ছেন কর্মকর্তারা। ফলে, প্রায়ই আবেদনকারীদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বাকবিতণ্ডা হচ্ছে। দুপুরের খাবারের বিরতিতে ভোগান্তি আরও বাড়ে। লাইনে অপেক্ষমাণ সেবাগ্রহীতারা কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার অভিযোগও করেন।

পাসপোর্ট সেবা পেতে আসা লোকজনের অভিযোগ, চট্টগ্রাম কার্যালয়গুলোতে অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম নেই। ফলে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অথচ, ঢাকার পাসপোর্ট অফিসগুলোতে এই সিস্টেম চালু থাকায় ভোগান্তি অনেক কম।

অন্যদিকে, রাজস্ব আয়ের দিক থেকে চট্টগ্রামের পাসপোর্ট কার্যালয়গুলো বেশ এগিয়ে। বিভাগীয় পাসপোর্ট কার্যালয় গত চার অর্থবছরে ৩৫৩ কোটি ৪৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫০ টাকা রাজস্ব আয় করেছে। আঞ্চলিক কার্যালয় থেকেও গত পাঁচ বছরে প্রায় ৭০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান, “স্বল্পসংখ্যক জনবল নিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষকে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। বিশেষ করে, এনরোলমেন্ট শাখায় চাপ থাকে সবচেয়ে বেশি।”

মনসুরাবাদ বিভাগীয় পাসপোর্ট কার্যালয়ের চিত্রও একই। প্রতিদিন প্রায় ১২০০ সেবাপ্রার্থীর চাপ সামলাতে হয় মুষ্টিমেয় কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট কার্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ এবং অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম চালু করা হোক। সেইসঙ্গে, সেবার মান উন্নয়নের জন্য কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান সাইদুল ইসলাম বলেন, “সেবার মান বাড়াতে নিয়মিত বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জনবল সংকটের বিষয়টিও আমাদের নজরে আছে।” শিডিউল সিস্টেম চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, “কিছু জটিলতার কারণে আপাতত এটি বন্ধ রাখা হয়েছে।”

একুশে পত্রিকা সম্পাদক নজরুল কবির দীপু বলেন, “চট্টগ্রামের পাসপোর্ট কার্যালয়গুলো একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস, তেমনি সেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে চরম অসন্তোষ। এ অবস্থায়, জনবল সংকট নিরসন ও আধুনিকায়ন করে পাসপোর্ট সেবাকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করা উচিত।”