সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

সীতাকুণ্ডে টমেটোর দাম নেই, ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে ফসল

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এবার টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু ফলন বেশি হওয়ায় বাজারে ধস নেমেছে, দাম পাচ্ছেন না কৃষক। ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে শত শত মণ টমেটো।

উপজেলার মুরাদপুর, গুলিয়াখালী, বাড়বকুণ্ড, শুকলাল হাট, ছোট দারোগারহাট, কুমিরা, বাঁশবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, গাছে পাকা টমেটো ঝুলছে। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় কৃষকের তোলার আগ্রহ নেই। ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে ফসল। অনেকে আবার কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

চলতি মৌসুমে সীতাকুণ্ডে ৫৯০ হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে চার হাজার কৃষক টমেটো চাষ করেছেন। ফলন হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু বাজারে চাহিদা না থাকায় দাম কমে গেছে। এতে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, ক্ষেত থেকে টমেটো তোলার খরচও উঠছে না।

মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী এলাকার কৃষক আইয়ুব আলী জানান, কয়েকদিন আগেও প্রতি কেজি টমেটো ৬ টাকায় বিক্রি করেছেন। এখন সেই টমেটো কেউ কিনছেই না।

পড়াশোনা শেষ করে উদ্যোক্তা হওয়ার আশায় গ্রামে এসে টমেটো চাষ শুরু করেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ করে চার বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছিল, আশা করেছিলেন দেড়-দুই লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু এখনকার বাজার দরে খরচের টাকাই উঠবে না।

শুকলাল হাট ও কুমিরা এলাকার কয়েকজন কৃষক জানান, তাঁরা আর টমেটো চাষ করবেন না। তাঁদের দাবি, এলাকায় সরকারি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করতে হবে এবং সরকারকে ঋণ ও সার-বীজ দিয়ে সহায়তা করতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ জানান, এবার ফলন বেশি হওয়ায় বাজারে দাম কমে গেছে। তবে কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হিমাগার স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

সীতাকুণ্ডে টমেটোর দাম নেই, ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে ফসল

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ মার্চ ২০২৫, ১১:২৮

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এবার টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু ফলন বেশি হওয়ায় বাজারে ধস নেমেছে, দাম পাচ্ছেন না কৃষক। ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে শত শত মণ টমেটো।

উপজেলার মুরাদপুর, গুলিয়াখালী, বাড়বকুণ্ড, শুকলাল হাট, ছোট দারোগারহাট, কুমিরা, বাঁশবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, গাছে পাকা টমেটো ঝুলছে। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় কৃষকের তোলার আগ্রহ নেই। ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে ফসল। অনেকে আবার কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

চলতি মৌসুমে সীতাকুণ্ডে ৫৯০ হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে চার হাজার কৃষক টমেটো চাষ করেছেন। ফলন হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু বাজারে চাহিদা না থাকায় দাম কমে গেছে। এতে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, ক্ষেত থেকে টমেটো তোলার খরচও উঠছে না।

মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী এলাকার কৃষক আইয়ুব আলী জানান, কয়েকদিন আগেও প্রতি কেজি টমেটো ৬ টাকায় বিক্রি করেছেন। এখন সেই টমেটো কেউ কিনছেই না।

পড়াশোনা শেষ করে উদ্যোক্তা হওয়ার আশায় গ্রামে এসে টমেটো চাষ শুরু করেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ করে চার বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছিল, আশা করেছিলেন দেড়-দুই লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু এখনকার বাজার দরে খরচের টাকাই উঠবে না।

শুকলাল হাট ও কুমিরা এলাকার কয়েকজন কৃষক জানান, তাঁরা আর টমেটো চাষ করবেন না। তাঁদের দাবি, এলাকায় সরকারি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করতে হবে এবং সরকারকে ঋণ ও সার-বীজ দিয়ে সহায়তা করতে হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ জানান, এবার ফলন বেশি হওয়ায় বাজারে দাম কমে গেছে। তবে কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হিমাগার স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।