সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

বছরে ৩২ হাজার শিশুর জন্ম, ১৩ লাখে পৌঁছেছে রোহিঙ্গা জনসংখ্যা

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থমকে থাকা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসার মধ্যেই কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে প্রতিদিন জন্ম নিচ্ছে কয়েক ডজন শিশু, যাদের একটি বড় অংশই অপুষ্টির শিকার ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মায়ের সন্তান।

বাল্যবিয়ে, অপুষ্টি এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণে অনাগ্রহের কারণে আশ্রয়শিবিরে দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ছে, যা চলমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাখাইন রাজ্যের নতুন সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গাদের নতুন অনুপ্রবেশ।

উখিয়ার ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের সিনিয়র ডিরেক্টর ডা. কাজী গোলাম রসুল সম্প্রতি কূটনীতিক ও সাংবাদিকদের এক প্রতিনিধিদলকে জানান, শুধুমাত্র তার হাসপাতালেই প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নেয়, মাসে যার সংখ্যা প্রায় ৪০০। তিনি বলেন, “জন্ম দেওয়া নারীদের অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং অপুষ্টিতে ভোগেন। রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বাল্যবিয়ে একটি সাধারণ ঘটনা।”

একইভাবে উখিয়ার হোপ ফিল্ড হাসপাতালে প্রতি মাসে প্রায় ১২০টি রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম নিবন্ধিত হয় বলে জানান হোপ ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কে এম জাহিদুজ্জামান।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি কক্সবাজারে এক সংলাপে জানান, প্রতি বছর ৩২ হাজার নতুন জন্মের ফলে রোহিঙ্গা জনসংখ্যা এখন ১৩ লাখে পৌঁছেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে অভ্যস্ত না হওয়ায় রোহিঙ্গাদের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস জানান, ২০১৭ সালে তিনি যখন বাংলাদেশে আসেন, তখন থেকে এখন পর্যন্ত তার পরিবারে আটটি সন্তান রয়েছে এবং তারা পুরোপুরি ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে, তহবিলের অভাবে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ লাখ শিশু বর্তমানে কোনো ধরনের শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না।

এই সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন অনুপ্রবেশের চাপ। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ জানান, ২০২৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত রাখাইনের চলমান সংঘাতের কারণে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার নতুন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের তথ্যমতে, বর্তমানে উখিয়ার ২৬টি, টেকনাফের ৭টি এবং ভাসানচরের ১টি শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১১ লাখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

বছরে ৩২ হাজার শিশুর জন্ম, ১৩ লাখে পৌঁছেছে রোহিঙ্গা জনসংখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ আগস্ট ২০২৫, ১২:০২

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থমকে থাকা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসার মধ্যেই কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে প্রতিদিন জন্ম নিচ্ছে কয়েক ডজন শিশু, যাদের একটি বড় অংশই অপুষ্টির শিকার ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মায়ের সন্তান।

বাল্যবিয়ে, অপুষ্টি এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণে অনাগ্রহের কারণে আশ্রয়শিবিরে দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ছে, যা চলমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাখাইন রাজ্যের নতুন সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গাদের নতুন অনুপ্রবেশ।

উখিয়ার ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের সিনিয়র ডিরেক্টর ডা. কাজী গোলাম রসুল সম্প্রতি কূটনীতিক ও সাংবাদিকদের এক প্রতিনিধিদলকে জানান, শুধুমাত্র তার হাসপাতালেই প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নেয়, মাসে যার সংখ্যা প্রায় ৪০০। তিনি বলেন, “জন্ম দেওয়া নারীদের অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং অপুষ্টিতে ভোগেন। রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বাল্যবিয়ে একটি সাধারণ ঘটনা।”

একইভাবে উখিয়ার হোপ ফিল্ড হাসপাতালে প্রতি মাসে প্রায় ১২০টি রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম নিবন্ধিত হয় বলে জানান হোপ ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কে এম জাহিদুজ্জামান।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি কক্সবাজারে এক সংলাপে জানান, প্রতি বছর ৩২ হাজার নতুন জন্মের ফলে রোহিঙ্গা জনসংখ্যা এখন ১৩ লাখে পৌঁছেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে অভ্যস্ত না হওয়ায় রোহিঙ্গাদের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস জানান, ২০১৭ সালে তিনি যখন বাংলাদেশে আসেন, তখন থেকে এখন পর্যন্ত তার পরিবারে আটটি সন্তান রয়েছে এবং তারা পুরোপুরি ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে, তহবিলের অভাবে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ লাখ শিশু বর্তমানে কোনো ধরনের শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না।

এই সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন অনুপ্রবেশের চাপ। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ জানান, ২০২৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত রাখাইনের চলমান সংঘাতের কারণে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার নতুন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের তথ্যমতে, বর্তমানে উখিয়ার ২৬টি, টেকনাফের ৭টি এবং ভাসানচরের ১টি শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১১ লাখ।