সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

তীব্র গরমে বছরে ২৫ কোটি কর্মদিবস নষ্ট, ২১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

তীব্র গরমের কারণে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৫ কোটি কর্মদিবস নষ্ট হচ্ছে, যার আর্থিক ক্ষতি ২১ হাজার কোটি টাকার মতো। এর ফলে দেশের স্বাস্থ্যখাত এবং অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

বিশ্বব্যাংকের ‘অ্যান আনসাস্টেইনেবল লাইফ: দ্য ইমপ্যাক্ট অব হিট অন হেলথ অ্যান্ড দ্য ইকোনমি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক নতুন প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত গরমে অসুস্থতাজনিত কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় দিনমজুর থেকে শুরু করে সব পেশার মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

খাতুনগঞ্জের আলুর আড়তের দিনমজুর ইয়াছমিন আক্তার তাদেরই একজন। তিনি জানান, গরমের কারণে অসুস্থ হয়ে এ বছর তাকে ১১ দিন কাজে অনুপস্থিত থাকতে হয়েছে।

ইয়াছমিন আক্তার বলেন, “ঘাম শরীরে বইসা অসুখ বাধায়। গরম এত বাড়ছে যে বলার মতো না। কাজে না গেলে টাকা পাই না, এতে পুরো সংসার বিপদে পড়ে।”

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮০ সালের পর থেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেও গরমের অনুভূতি বেড়েছে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, যেখানে তাপমাত্রা জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি হারে বেড়েছে।

প্রতিবেদনের সহলেখক ও বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অপারেশনস অফিসার ইফফাত মাহমুদ বলেন, “অতিরিক্ত গরমে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং এর সঙ্গে সরাসরি উৎপাদনশীলতার ক্ষতিও ঘটছে। বাংলাদেশ মানবসম্পদ ও উৎপাদনশীলতা হারানোর বাস্তব ঝুঁকির মুখে।”

গবেষণায় দেখা গেছে, গরমের কারণে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা বাড়ায় কর্মদিবস নষ্ট হওয়ার হারও বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের অদক্ষ শ্রমিক, पुरुष এবং কম শিক্ষিত জনগোষ্ঠী।

কেন বাড়ছে তাপমাত্রা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি জানান, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দূষণই তাপমাত্রা বৃদ্ধির মূল কারণ।

আবদুস সালাম বলেন, “বিশেষ করে ঢাকার তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য ব্ল্যাক কার্বন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেনের মতো ক্ষতিকর গ্যাস দায়ী। গাড়ির কালো ধোঁয়া ও ইটভাটা থেকে নির্গত এসব গ্যাস নিয়ন্ত্রণে কোনো তৎপরতা আমরা দেখি না।”

এ ছাড়া, তিন দশকে ঢাকার জলাভূমি ৬৯ শতাংশ কমে যাওয়ায় ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রাও বেড়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, “বিশ্বব্যাংকের গবেষণাটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। গরমের কারণে অসুস্থতায় তো কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়ই, আবার গরম থেকে বাঁচতে পাখা বা এসি কেনার মাধ্যমেও মানুষের ব্যয় বাড়ছে। সব মিলিয়ে এর নেতিবাচক প্রভাবই বেশি।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

তীব্র গরমে বছরে ২৫ কোটি কর্মদিবস নষ্ট, ২১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৮:১৩

তীব্র গরমের কারণে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৫ কোটি কর্মদিবস নষ্ট হচ্ছে, যার আর্থিক ক্ষতি ২১ হাজার কোটি টাকার মতো। এর ফলে দেশের স্বাস্থ্যখাত এবং অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

বিশ্বব্যাংকের ‘অ্যান আনসাস্টেইনেবল লাইফ: দ্য ইমপ্যাক্ট অব হিট অন হেলথ অ্যান্ড দ্য ইকোনমি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক নতুন প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত গরমে অসুস্থতাজনিত কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় দিনমজুর থেকে শুরু করে সব পেশার মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

খাতুনগঞ্জের আলুর আড়তের দিনমজুর ইয়াছমিন আক্তার তাদেরই একজন। তিনি জানান, গরমের কারণে অসুস্থ হয়ে এ বছর তাকে ১১ দিন কাজে অনুপস্থিত থাকতে হয়েছে।

ইয়াছমিন আক্তার বলেন, “ঘাম শরীরে বইসা অসুখ বাধায়। গরম এত বাড়ছে যে বলার মতো না। কাজে না গেলে টাকা পাই না, এতে পুরো সংসার বিপদে পড়ে।”

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮০ সালের পর থেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেও গরমের অনুভূতি বেড়েছে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, যেখানে তাপমাত্রা জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি হারে বেড়েছে।

প্রতিবেদনের সহলেখক ও বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অপারেশনস অফিসার ইফফাত মাহমুদ বলেন, “অতিরিক্ত গরমে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং এর সঙ্গে সরাসরি উৎপাদনশীলতার ক্ষতিও ঘটছে। বাংলাদেশ মানবসম্পদ ও উৎপাদনশীলতা হারানোর বাস্তব ঝুঁকির মুখে।”

গবেষণায় দেখা গেছে, গরমের কারণে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা বাড়ায় কর্মদিবস নষ্ট হওয়ার হারও বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের অদক্ষ শ্রমিক, पुरुष এবং কম শিক্ষিত জনগোষ্ঠী।

কেন বাড়ছে তাপমাত্রা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি জানান, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দূষণই তাপমাত্রা বৃদ্ধির মূল কারণ।

আবদুস সালাম বলেন, “বিশেষ করে ঢাকার তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য ব্ল্যাক কার্বন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেনের মতো ক্ষতিকর গ্যাস দায়ী। গাড়ির কালো ধোঁয়া ও ইটভাটা থেকে নির্গত এসব গ্যাস নিয়ন্ত্রণে কোনো তৎপরতা আমরা দেখি না।”

এ ছাড়া, তিন দশকে ঢাকার জলাভূমি ৬৯ শতাংশ কমে যাওয়ায় ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রাও বেড়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, “বিশ্বব্যাংকের গবেষণাটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। গরমের কারণে অসুস্থতায় তো কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়ই, আবার গরম থেকে বাঁচতে পাখা বা এসি কেনার মাধ্যমেও মানুষের ব্যয় বাড়ছে। সব মিলিয়ে এর নেতিবাচক প্রভাবই বেশি।”