সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

২২ কোটি টাকার ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড’ মহেশখালী: অযত্ন-অবহেলায় ভেস্তে গেছে প্রকল্প

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

ঢাকঢোল পিটিয়ে দেশের প্রথম ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড’ ঘোষণা করা হলেও অযত্ন-অবহেলায় মুখ থুবড়ে পড়েছে কক্সবাজারের মহেশখালীর ২২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প।

এখন প্রকল্পের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ। চুরি হয়ে গেছে ইন্টারনেট সংযোগের ১৯ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার, আর অযত্নে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কম্পিউটার ও প্রজেক্টরের মতো মূল্যবান ডিজিটাল সরঞ্জাম।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), কোরিয়া টেলিকম এবং বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ যৌথভাবে ২০১৭ সালে এই প্রকল্পটি চালু করেছিল। তবে প্রথম আড়াই বছর চলার পর এর কার্যক্রম থমকে যায়। ফলে দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য চালু হওয়া দূর-শিক্ষা, টেলিমেডিসিন ও ই-কমার্সের মতো সেবাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

মাঠের চিত্র

মহেশখালী পৌরসভার আদিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিঠুন ভট্টাচার্য জানান, প্রকল্পের আওতায় তার স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু হয়েছিল, যেখানে ঢাকার শিক্ষকরা পাঠদান করতেন। ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হওয়ার পর এখন কম্পিউটার ও প্রজেক্টরগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। একই অবস্থা মহেশখালী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও, জানান সেখানকার প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, প্রকল্পের আওতায় হাসপাতালে টেলিমেডিসিন সেবা চালু হলেও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় এখন তা বন্ধ। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিকল্প উপায়ে সেবা চালু রাখা হয়েছে।

কেন ব্যর্থ হলো প্রকল্প

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষে এটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও বাজেটের অভাবে অধিদপ্তর প্রকল্পটি চালু রাখতে পারেনি। মহেশখালী সমাজসেবা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দিদার আলম জানান, মূলত ১৯ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার চুরি হওয়ার পরই ইন্টারনেট-নির্ভর সেবাগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আইসিটি কেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহমুদুল করিম জানান, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় কেন্দ্রের গ্রিল ভেঙে কম্পিউটারসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরি হয়।

কক্সবাজার সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সফি উদ্দিন বলেন, “করোনার সময় প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। এটি নতুন করে চালু করতে গেলে বড় অঙ্কের বাজেট দরকার, যা আমাদের নেই। আপাতত ট্রেনিং সেন্টারটি চালুর জন্য মহাপরিচালক বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।”

স্থানীয় কলেজশিক্ষক ও এক্টিভিস্ট রুহুল আমিন বলেন, “প্রকল্পটি চালুর পর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নতি হচ্ছিল। কিন্তু এখন সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্বীপবাসী আবার আগের মতো পিছিয়ে পড়ছে।”

মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হেদায়েত উল্যাহ জানান, একটি উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. সালাহউদ্দিন বলেন, সম্ভাবনাময় ডিজিটাল আইল্যান্ড প্রকল্পটি কেন বন্ধ হলো, তার খোঁজখবর তিনি নিচ্ছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

২২ কোটি টাকার ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড’ মহেশখালী: অযত্ন-অবহেলায় ভেস্তে গেছে প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:২৩

ঢাকঢোল পিটিয়ে দেশের প্রথম ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড’ ঘোষণা করা হলেও অযত্ন-অবহেলায় মুখ থুবড়ে পড়েছে কক্সবাজারের মহেশখালীর ২২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প।

এখন প্রকল্পের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ। চুরি হয়ে গেছে ইন্টারনেট সংযোগের ১৯ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার, আর অযত্নে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কম্পিউটার ও প্রজেক্টরের মতো মূল্যবান ডিজিটাল সরঞ্জাম।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), কোরিয়া টেলিকম এবং বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ যৌথভাবে ২০১৭ সালে এই প্রকল্পটি চালু করেছিল। তবে প্রথম আড়াই বছর চলার পর এর কার্যক্রম থমকে যায়। ফলে দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য চালু হওয়া দূর-শিক্ষা, টেলিমেডিসিন ও ই-কমার্সের মতো সেবাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

মাঠের চিত্র

মহেশখালী পৌরসভার আদিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিঠুন ভট্টাচার্য জানান, প্রকল্পের আওতায় তার স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু হয়েছিল, যেখানে ঢাকার শিক্ষকরা পাঠদান করতেন। ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হওয়ার পর এখন কম্পিউটার ও প্রজেক্টরগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। একই অবস্থা মহেশখালী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও, জানান সেখানকার প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, প্রকল্পের আওতায় হাসপাতালে টেলিমেডিসিন সেবা চালু হলেও ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় এখন তা বন্ধ। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিকল্প উপায়ে সেবা চালু রাখা হয়েছে।

কেন ব্যর্থ হলো প্রকল্প

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষে এটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও বাজেটের অভাবে অধিদপ্তর প্রকল্পটি চালু রাখতে পারেনি। মহেশখালী সমাজসেবা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দিদার আলম জানান, মূলত ১৯ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার চুরি হওয়ার পরই ইন্টারনেট-নির্ভর সেবাগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আইসিটি কেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহমুদুল করিম জানান, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় কেন্দ্রের গ্রিল ভেঙে কম্পিউটারসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরি হয়।

কক্সবাজার সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সফি উদ্দিন বলেন, “করোনার সময় প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। এটি নতুন করে চালু করতে গেলে বড় অঙ্কের বাজেট দরকার, যা আমাদের নেই। আপাতত ট্রেনিং সেন্টারটি চালুর জন্য মহাপরিচালক বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।”

স্থানীয় কলেজশিক্ষক ও এক্টিভিস্ট রুহুল আমিন বলেন, “প্রকল্পটি চালুর পর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নতি হচ্ছিল। কিন্তু এখন সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দ্বীপবাসী আবার আগের মতো পিছিয়ে পড়ছে।”

মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হেদায়েত উল্যাহ জানান, একটি উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. সালাহউদ্দিন বলেন, সম্ভাবনাময় ডিজিটাল আইল্যান্ড প্রকল্পটি কেন বন্ধ হলো, তার খোঁজখবর তিনি নিচ্ছেন।