সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

পোশাক শিল্পে ‘নাশকতার আগুন’? সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টার সন্দেহ

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

রাজধানীর মিরপুর, চট্টগ্রাম ইপিজেড এবং সবশেষ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ—গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে শিল্প সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ঘটে যাওয়া এই তিনটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পেছনে নাশকতার সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে।

শিল্প মালিক ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো আশঙ্কা করছে, গণ-অভ্যুত্থানবিরোধী শক্তিগুলো অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড তৈরি পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করতে পরিকল্পিতভাবে এসব আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে।

পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। নাশকতার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অগ্নিকাণ্ডগুলোর ধরন, সময় এবং লক্ষ্যবস্তু নাশকতার দিকেই ইঙ্গিত করছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে তিনটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্বাভাবিক নয় বলে মনে করছেন তারা।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সমর্থক ও তাদের সহযোগীরা অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এর আগে সাভার-গাজীপুরে কারখানায় ভাঙচুরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা এখন অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতার পথ বেছে নিতে পারে।

বিদেশে বসে থাকা ক্ষমতাচ্যুত সরকারের কেউ কেউ এসব কর্মকাণ্ডে ইন্ধন জোগাচ্ছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের রাজনৈতিক পরিচয়সহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

টানা কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পোশাক শিল্প মালিকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা শিল্প এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ নিটপণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “কার্গো ভিলেজের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় আগুন লাগার ঘটনা স্পষ্টতই নিরাপত্তা ঝুঁকি তুলে ধরেছে। এটি দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, তা দ্রুত তদন্ত হওয়া উচিত। কারণ একের পর এক অগ্নিকাণ্ড বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।”

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “আমার মনে হয়, পোশাক শিল্পকে ধ্বংসে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হচ্ছে। বিমানবন্দরের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত জায়গায় আগুন লাগা অস্বাভাবিক।” তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকা এবং শিল্প এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দাবি করেন।

বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান রোববার অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

পোশাক শিল্পে ‘নাশকতার আগুন’? সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টার সন্দেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ অক্টোবর ২০২৫, ১০:২২

রাজধানীর মিরপুর, চট্টগ্রাম ইপিজেড এবং সবশেষ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ—গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে শিল্প সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ঘটে যাওয়া এই তিনটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পেছনে নাশকতার সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছে।

শিল্প মালিক ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো আশঙ্কা করছে, গণ-অভ্যুত্থানবিরোধী শক্তিগুলো অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড তৈরি পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করতে পরিকল্পিতভাবে এসব আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে।

পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। নাশকতার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অগ্নিকাণ্ডগুলোর ধরন, সময় এবং লক্ষ্যবস্তু নাশকতার দিকেই ইঙ্গিত করছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে তিনটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্বাভাবিক নয় বলে মনে করছেন তারা।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সমর্থক ও তাদের সহযোগীরা অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এর আগে সাভার-গাজীপুরে কারখানায় ভাঙচুরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা এখন অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতার পথ বেছে নিতে পারে।

বিদেশে বসে থাকা ক্ষমতাচ্যুত সরকারের কেউ কেউ এসব কর্মকাণ্ডে ইন্ধন জোগাচ্ছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের রাজনৈতিক পরিচয়সহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

টানা কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পোশাক শিল্প মালিকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা শিল্প এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ নিটপণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “কার্গো ভিলেজের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় আগুন লাগার ঘটনা স্পষ্টতই নিরাপত্তা ঝুঁকি তুলে ধরেছে। এটি দুর্ঘটনা নাকি ষড়যন্ত্র, তা দ্রুত তদন্ত হওয়া উচিত। কারণ একের পর এক অগ্নিকাণ্ড বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।”

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “আমার মনে হয়, পোশাক শিল্পকে ধ্বংসে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হচ্ছে। বিমানবন্দরের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত জায়গায় আগুন লাগা অস্বাভাবিক।” তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকা এবং শিল্প এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দাবি করেন।

বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান রোববার অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।