সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

খালেদা জিয়া ‘গণতন্ত্র ও ঐক্যের প্রতীক’, সুস্থতা কামনায় জুলাইয়ের ছাত্রনেতারা

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতারা। তারা সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন বিবৃতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়করা রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

জুলাই আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক এবং তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম ফেসবুকে লিখেছেন, বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। দেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তরে তার প্রজ্ঞা ও উপস্থিতি অপরিহার্য উল্লেখ করে উপদেষ্টা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম সোমবার এক দোয়া মাহফিলে খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রে খালেদা জিয়ার অবদান চিরস্মরণীয়। আমরা আশা করি, তিনি আমাদের সঙ্গে আরও অনেক বছর থাকবেন।

এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তার অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও স্থিতিশীল রয়েছে। জনসাধারণের প্রার্থনাই এখন তার সবচেয়ে বড় সহায়।

জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমও বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মাহিন সরকার বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। আল্লাহ তার ওপর দয়া করুন।

ডা. তাসনিম জারা দেশের মানুষকে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি খালেদা জিয়ার সাহস, ধৈর্য ও প্রতিকূলতার মধ্যেও আপসহীনতার প্রশংসা করেন। জুলাই আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনে খালেদা জিয়ার প্রাসঙ্গিকতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর নেতারাও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ডাকসুর সহ-সভাপতি আবু সাদিক কায়েম লিখেছেন, রাজনৈতিক সহাবস্থান ও জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য তার উপস্থিতি অপরিহার্য।

ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বেগম খালেদা জিয়ার ‘গৃহিণী থেকে প্রধানমন্ত্রী’ হয়ে ওঠার যাত্রা এবং কর্তৃত্ববাদ মোকাবিলায় তার ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক, রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং চাপের মুখেও বেগম জিয়া যে দৃঢ় নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা অনস্বীকার্য। ছাত্র-নেতৃত্বাধীন জুলাই আন্দোলন শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মাধ্যমে জাতির দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামকে পূর্ণতা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ছাত্রনেতারা একমত পোষণ করেন যে, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং রাজনৈতিক-আদর্শিক বিভাজন অতিক্রম করে জোট গঠন বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক উত্তরণে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

খালেদা জিয়া ‘গণতন্ত্র ও ঐক্যের প্রতীক’, সুস্থতা কামনায় জুলাইয়ের ছাত্রনেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৩:৪৯

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতারা। তারা সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন বিবৃতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়করা রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

জুলাই আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক এবং তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম ফেসবুকে লিখেছেন, বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। দেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তরে তার প্রজ্ঞা ও উপস্থিতি অপরিহার্য উল্লেখ করে উপদেষ্টা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম সোমবার এক দোয়া মাহফিলে খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রে খালেদা জিয়ার অবদান চিরস্মরণীয়। আমরা আশা করি, তিনি আমাদের সঙ্গে আরও অনেক বছর থাকবেন।

এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তার অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও স্থিতিশীল রয়েছে। জনসাধারণের প্রার্থনাই এখন তার সবচেয়ে বড় সহায়।

জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমও বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মাহিন সরকার বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। আল্লাহ তার ওপর দয়া করুন।

ডা. তাসনিম জারা দেশের মানুষকে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি খালেদা জিয়ার সাহস, ধৈর্য ও প্রতিকূলতার মধ্যেও আপসহীনতার প্রশংসা করেন। জুলাই আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনে খালেদা জিয়ার প্রাসঙ্গিকতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর নেতারাও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ডাকসুর সহ-সভাপতি আবু সাদিক কায়েম লিখেছেন, রাজনৈতিক সহাবস্থান ও জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য তার উপস্থিতি অপরিহার্য।

ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বেগম খালেদা জিয়ার ‘গৃহিণী থেকে প্রধানমন্ত্রী’ হয়ে ওঠার যাত্রা এবং কর্তৃত্ববাদ মোকাবিলায় তার ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক, রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং চাপের মুখেও বেগম জিয়া যে দৃঢ় নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা অনস্বীকার্য। ছাত্র-নেতৃত্বাধীন জুলাই আন্দোলন শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মাধ্যমে জাতির দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামকে পূর্ণতা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ছাত্রনেতারা একমত পোষণ করেন যে, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং রাজনৈতিক-আদর্শিক বিভাজন অতিক্রম করে জোট গঠন বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক উত্তরণে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।