সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

প্রচার টিমে ঢুকে হাদিকে গুলি

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর যারা গুলি চালিয়েছে, তারা সম্প্রতি তার নির্বাচনী প্রচারণার টিমে যোগ দিয়েছিল। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে বিজয়নগরে হামলার পর ইনকিলাব মঞ্চের এক সদস্য এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদির অস্ত্রোপচার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। তার অবস্থা এখনো অত্যন্ত সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য মোহাম্মদ ওসামা জানান, হামলাকারী দুজন মোটরসাইকেলে করে এসেছিল। তাদের একজন হাদির ওপর গুলি চালায়। ওসামা দাবি করেন, “এই দুজন প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ওসমান হাদির প্রচারণার টিমে যোগ দিয়েছিল। মাঝখানে কিছুদিন তাদের দেখা যায়নি। কয়েক দিন আগে তারা আবার এসে প্রচারণার কাজে যোগ দেয়।”

পুলিশ ও র‍্যাব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ সেলিম নিশ্চিত করেছেন যে, হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

সন্ধ্যায় ঢামেক হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে হাদির অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। তার অবস্থা ‘খুবই ক্রিটিক্যাল, তবে তিনি বেঁচে আছেন’। অপারেশন থিয়েটার থেকে তাকে প্রথমে আইসিইউতে এবং পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়।

বিকেলে হাদিকে দেখতে ঢামেক হাসপাতালে যান ওই আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের সঙ্গে মির্জা আব্বাসের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। বিক্ষোভের মুখে কিছুক্ষণ পর মির্জা আব্বাস হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান হাসপাতালে গিয়ে হাদির খোঁজখবর নেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতালে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশে এমন সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য। তিনি হাদির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফেসবুকে লিখেছেন, “গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো জায়গা নেই।” জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ফেসবুকে লিখেছেন, “গণহত্যার দায়ে কনভিকটেড হাসিনা ভারতে বসে একের পর এক খুনের হুমকি দিচ্ছিল। হাদি বহুবার ভারতীয় নম্বর থেকে খুনের হুমকি পেয়েছেন।”

ইনকিলাব মঞ্চের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল জাবের জানান, হাদির সঙ্গে থাকা দুজন কর্মী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের শত্রু বা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীদের কেউ এই ঘটনার পেছনে থাকতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

প্রচার টিমে ঢুকে হাদিকে গুলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৮:৩৫

ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর যারা গুলি চালিয়েছে, তারা সম্প্রতি তার নির্বাচনী প্রচারণার টিমে যোগ দিয়েছিল। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে বিজয়নগরে হামলার পর ইনকিলাব মঞ্চের এক সদস্য এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদির অস্ত্রোপচার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে। তার অবস্থা এখনো অত্যন্ত সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য মোহাম্মদ ওসামা জানান, হামলাকারী দুজন মোটরসাইকেলে করে এসেছিল। তাদের একজন হাদির ওপর গুলি চালায়। ওসামা দাবি করেন, “এই দুজন প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ওসমান হাদির প্রচারণার টিমে যোগ দিয়েছিল। মাঝখানে কিছুদিন তাদের দেখা যায়নি। কয়েক দিন আগে তারা আবার এসে প্রচারণার কাজে যোগ দেয়।”

পুলিশ ও র‍্যাব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ সেলিম নিশ্চিত করেছেন যে, হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

সন্ধ্যায় ঢামেক হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে হাদির অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। তার অবস্থা ‘খুবই ক্রিটিক্যাল, তবে তিনি বেঁচে আছেন’। অপারেশন থিয়েটার থেকে তাকে প্রথমে আইসিইউতে এবং পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়।

বিকেলে হাদিকে দেখতে ঢামেক হাসপাতালে যান ওই আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের সঙ্গে মির্জা আব্বাসের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। বিক্ষোভের মুখে কিছুক্ষণ পর মির্জা আব্বাস হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান হাসপাতালে গিয়ে হাদির খোঁজখবর নেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতালে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশে এমন সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য। তিনি হাদির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফেসবুকে লিখেছেন, “গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো জায়গা নেই।” জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ফেসবুকে লিখেছেন, “গণহত্যার দায়ে কনভিকটেড হাসিনা ভারতে বসে একের পর এক খুনের হুমকি দিচ্ছিল। হাদি বহুবার ভারতীয় নম্বর থেকে খুনের হুমকি পেয়েছেন।”

ইনকিলাব মঞ্চের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল জাবের জানান, হাদির সঙ্গে থাকা দুজন কর্মী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের শত্রু বা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীদের কেউ এই ঘটনার পেছনে থাকতে পারে।