সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

সেন্ট মার্টিন এখন জনশূন্য, ২ মাসে ১ লাখ ১৭ হাজার পর্যটকের ভ্রমণ

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণের সময়সীমা শেষ হয়েছে আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি)। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৯ মাস দ্বীপে পর্যটকদের ভ্রমণ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। শেষ দিনে দ্বীপ ছেড়েছেন পর্যটক, হোটেল শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। ফলে বিকেলের পর থেকেই পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে পুরো দ্বীপ।

শনিবার বিকেলে ছয়টি জাহাজ ও কয়েকটি কাঠের ট্রলারে করে অন্তত তিন হাজার পর্যটক, হোটেল-মোটেলের কর্মচারী ও ব্যবসায়ী দ্বীপ ছেড়েছেন। বিকেল ৪টার পর থেকে দ্বীপের দুই শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ এবং অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, শনিবার সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়াছটা জেটিঘাট থেকে ছয়টি জাহাজ সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। যাওয়ার সময় জাহাজগুলোতে কোনো পর্যটক ছিল না। দুপুর ১টার দিকে জাহাজগুলো দ্বীপে পৌঁছায় এবং বিকেল ৩টা নাগাদ সেখানে অবস্থানরত অন্তত আড়াই হাজার পর্যটক ও হোটেল-মোটেলের আরও ৫০০ কর্মীকে নিয়ে জাহাজগুলো পুনরায় কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

তিনি আরও জানান, গত ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস পর্যটকদের জন্য দ্বীপটি উন্মুক্ত ছিল। তবে নভেম্বরে রাতযাপনের অনুমতি না থাকায় পর্যটকরা যাননি। মূলত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই দুই মাসে ১ লাখ ১৭ হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় দেড় থেকে দুই হাজার বেশি।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহবুব পাশা জানান, সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যটকদের সচেতনতার কারণে সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষত সারতে শুরু করেছে। এবার ছেঁড়াদিয়া দ্বীপে ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকায় সেখানে শামুক-ঝিনুকের বিস্তার দেখা গেছে। এছাড়া সৈকতে বারবিকিউ ও আলোকসজ্জা না হওয়ায় নতুন সামুদ্রিক গুল্ম ও গাছপালা জন্মেছে। ফিরতে শুরু করেছে জীববৈচিত্র্য।

দ্বীপের দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি মৌলভি নুর আহমদ বলেন, টানা দুই মাস বিপুল পর্যটকের আগমনে দ্বীপটি সরগরম ছিল এবং ব্যবসা-বাণিজ্যও ভালো হয়েছে। তবে আজ বিকেল ৩টার পর থেকে পুরো দ্বীপ ফাঁকা হয়ে গেছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ১০-১২টি প্রতিষ্ঠানের অন্তত ৩ হাজার মানুষ এখন বেকার হয়ে পড়বেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের প্রধান ও অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, জাহাজ এবং কক্সবাজারের জেটি ঘাটে ট্যুরিস্ট পুলিশ তৎপর ছিল। যে কারণে পুরো মৌসুমে কোনো পর্যটক হয়রানি বা বিপদের সম্মুখীন হননি।

উল্লেখ্য, ৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত বছরের ২২ অক্টোবর ১২টি নির্দেশনাসম্বলিত প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যটন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

সেন্ট মার্টিন এখন জনশূন্য, ২ মাসে ১ লাখ ১৭ হাজার পর্যটকের ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৫

বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণের সময়সীমা শেষ হয়েছে আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি)। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৯ মাস দ্বীপে পর্যটকদের ভ্রমণ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। শেষ দিনে দ্বীপ ছেড়েছেন পর্যটক, হোটেল শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। ফলে বিকেলের পর থেকেই পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে পুরো দ্বীপ।

শনিবার বিকেলে ছয়টি জাহাজ ও কয়েকটি কাঠের ট্রলারে করে অন্তত তিন হাজার পর্যটক, হোটেল-মোটেলের কর্মচারী ও ব্যবসায়ী দ্বীপ ছেড়েছেন। বিকেল ৪টার পর থেকে দ্বীপের দুই শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ এবং অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, শনিবার সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়াছটা জেটিঘাট থেকে ছয়টি জাহাজ সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। যাওয়ার সময় জাহাজগুলোতে কোনো পর্যটক ছিল না। দুপুর ১টার দিকে জাহাজগুলো দ্বীপে পৌঁছায় এবং বিকেল ৩টা নাগাদ সেখানে অবস্থানরত অন্তত আড়াই হাজার পর্যটক ও হোটেল-মোটেলের আরও ৫০০ কর্মীকে নিয়ে জাহাজগুলো পুনরায় কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

তিনি আরও জানান, গত ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস পর্যটকদের জন্য দ্বীপটি উন্মুক্ত ছিল। তবে নভেম্বরে রাতযাপনের অনুমতি না থাকায় পর্যটকরা যাননি। মূলত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই দুই মাসে ১ লাখ ১৭ হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেছেন, যা গত বছরের তুলনায় দেড় থেকে দুই হাজার বেশি।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহবুব পাশা জানান, সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যটকদের সচেতনতার কারণে সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষত সারতে শুরু করেছে। এবার ছেঁড়াদিয়া দ্বীপে ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকায় সেখানে শামুক-ঝিনুকের বিস্তার দেখা গেছে। এছাড়া সৈকতে বারবিকিউ ও আলোকসজ্জা না হওয়ায় নতুন সামুদ্রিক গুল্ম ও গাছপালা জন্মেছে। ফিরতে শুরু করেছে জীববৈচিত্র্য।

দ্বীপের দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি মৌলভি নুর আহমদ বলেন, টানা দুই মাস বিপুল পর্যটকের আগমনে দ্বীপটি সরগরম ছিল এবং ব্যবসা-বাণিজ্যও ভালো হয়েছে। তবে আজ বিকেল ৩টার পর থেকে পুরো দ্বীপ ফাঁকা হয়ে গেছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ১০-১২টি প্রতিষ্ঠানের অন্তত ৩ হাজার মানুষ এখন বেকার হয়ে পড়বেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের প্রধান ও অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, জাহাজ এবং কক্সবাজারের জেটি ঘাটে ট্যুরিস্ট পুলিশ তৎপর ছিল। যে কারণে পুরো মৌসুমে কোনো পর্যটক হয়রানি বা বিপদের সম্মুখীন হননি।

উল্লেখ্য, ৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত বছরের ২২ অক্টোবর ১২টি নির্দেশনাসম্বলিত প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যটন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।