ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে দুই শতাধিক আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে দলটি চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। দলের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি এবার ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচন করে উভয় আসনেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।
সংবিধান অনুযায়ী, কোনো দল বা জোট কমপক্ষে ১৫১টি আসন পেলে তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং সরকার গঠনের যোগ্যতা লাভ করে। সেই হিসেবে বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনের সক্ষমতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫ ও ৫৬ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়ে এই মন্ত্রিসভা গঠন করবেন। প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে বা তার কর্তৃত্বে প্রয়োগ করা হবে। অন্যদিকে, ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি সেই সংসদ সদস্যকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলে প্রতীয়মান হবেন। নিয়ম অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের অন্তত নয়-দশমাংশ সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে এবং অনধিক এক-দশমাংশ সদস্য টেকনোক্র্যাট কোটায় সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে মনোনীত করা যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে জানান, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের প্রধানকে রাষ্ট্রপতি সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানাবেন এবং রাষ্ট্রপতির শপথ পাঠ করানোর মধ্য দিয়ে নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে।
নির্বাচন কমিশন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট জারি করার পরপরই শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৫ অথবা ১৬ ফেব্রুয়ারি নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর সংসদ নেতা নির্বাচন করা হবে এবং তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, ফলাফলের গেজেট নোটিফিকেশনের পর যত দ্রুত সম্ভব সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে। এরপর ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে, অর্থাৎ রমজান শুরু হওয়ার আগেই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। বঙ্গভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন এবং অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
বিএনপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও তারা একা সরকার গঠন করবে না বলে আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। দলটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা শরিক ছিল, তাদের নিয়ে একটি ‘জাতীয় সরকার’ গঠন করা হবে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতিতে অটল। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যারা রাজপথে বিএনপির সঙ্গে ছিল, তাদের নিয়েই ইনশাআল্লাহ আমরা সরকার গঠন করব।
এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেছেন যে, ৩১ দফার ভিত্তিতে যারা যুগপৎ আন্দোলনে ছিল, তাদের নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই জাতীয় সরকার গঠিত হবে। এটি সংসদে থাকা সবাইকে নিয়ে সর্বদলীয় সরকার নয়, বরং আন্দোলনের সঙ্গীদের নিয়ে গঠিত একটি অংশীদারত্বমূলক সরকার ব্যবস্থা হবে।
