সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ: ৭টি এলাকা রেড জোন, অক্টোবরে মৃত্যু নেই

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নগরীর জনবহুল এলাকা এবং এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশের কারণে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের ৭টি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই এলাকাগুলো হলো: কোতোয়ালি, বাকলিয়া, বায়েজিদ, বন্দর, পাহাড়তলি, খুলশি ও চকবাজার। এসব এলাকায় এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৫৯ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সারা দেশে এদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, যার মধ্যে ঢাকায় ৩৪৭ জন। চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৯৪৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আগস্টের শেষ থেকে চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হওয়ায় এডিস মশার প্রজননের জন্য উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে মশাবাহিত এই রোগের বিস্তার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায় এবং এ মাসে ১১ জনের মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, “আগস্ট থেকে ডেঙ্গু রোগী বাড়তে শুরু করেছে। সেপ্টেম্বরে ১১ জন মারা গেছে। রোগী বেড়ে যাওয়ায় ২০ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১০টি ওয়ার্ডে ২২০টি বাড়িতে সার্ভে করি। এসময় মশার ডিম ও লার্ভা পরীক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। যেসব এলাকায় বেশি ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে, সেগুলোকে রেড জোন চিহ্নিত করা হয়েছে।”

ডা. চৌধুরী বলেন, “সেই তালিকা সিটি করপোরেশনে দিয়ে এলাকাগুলোতে মশা নিধনে বিশেষ নজর দিতে বলেছি। ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশনে বেশ কয়েকটি এলাকায় ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে। ক্র্যাশ প্রোগ্রামের ফলে চলতি অক্টোবরের এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যু হয়নি।”

কীটতত্ত্ববিদরা সতর্ক করেছেন যে, ডেঙ্গু এখন মৌসুমি রোগ নয় বরং এটি সারা বছর ধরে বিস্তৃত হতে পারে। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে নগরবাসীকে আরও সচেতন হতে হবে এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

সিটি করপোরেশন মশা নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করছে, যাতে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো সম্ভব হয়।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ: ৭টি এলাকা রেড জোন, অক্টোবরে মৃত্যু নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ অক্টোবর ২০২৪, ০৮:১৮

চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নগরীর জনবহুল এলাকা এবং এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশের কারণে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের ৭টি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই এলাকাগুলো হলো: কোতোয়ালি, বাকলিয়া, বায়েজিদ, বন্দর, পাহাড়তলি, খুলশি ও চকবাজার। এসব এলাকায় এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৫৯ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সারা দেশে এদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, যার মধ্যে ঢাকায় ৩৪৭ জন। চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৯৪৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আগস্টের শেষ থেকে চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হওয়ায় এডিস মশার প্রজননের জন্য উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে মশাবাহিত এই রোগের বিস্তার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায় এবং এ মাসে ১১ জনের মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, “আগস্ট থেকে ডেঙ্গু রোগী বাড়তে শুরু করেছে। সেপ্টেম্বরে ১১ জন মারা গেছে। রোগী বেড়ে যাওয়ায় ২০ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১০টি ওয়ার্ডে ২২০টি বাড়িতে সার্ভে করি। এসময় মশার ডিম ও লার্ভা পরীক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। যেসব এলাকায় বেশি ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে, সেগুলোকে রেড জোন চিহ্নিত করা হয়েছে।”

ডা. চৌধুরী বলেন, “সেই তালিকা সিটি করপোরেশনে দিয়ে এলাকাগুলোতে মশা নিধনে বিশেষ নজর দিতে বলেছি। ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশনে বেশ কয়েকটি এলাকায় ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে। ক্র্যাশ প্রোগ্রামের ফলে চলতি অক্টোবরের এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যু হয়নি।”

কীটতত্ত্ববিদরা সতর্ক করেছেন যে, ডেঙ্গু এখন মৌসুমি রোগ নয় বরং এটি সারা বছর ধরে বিস্তৃত হতে পারে। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে নগরবাসীকে আরও সচেতন হতে হবে এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

সিটি করপোরেশন মশা নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করছে, যাতে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো সম্ভব হয়।